বিষম ফাঁপরে

বিষম ফাঁপরে

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


প্রসঙ্গটি শমীক ভট্টাচার্য উত্থাপন করেছেন বলে নয়। প্রশ্নটি উঠতেই পারে যে, ফলতায় পুনর্নির্বাচনের প্রচারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যাননি কেন? ফলতা অভিষেকের সংসদীয় নির্বাচনি কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবার এলাকার অন্যতম বিধানসভা আসন। তিনি তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকও বটে। ফলতা এতদিন তৃণমূলের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি বলেই পরিচিত ছিল। কিন্তু সেখানকার পুনর্নির্বাচনের প্রচারে অভিষেক দূরে থাক, রাজ্য স্তরের কোনও নেতা গেলেন না।

বিধানসভা নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার দু’সপ্তাহ পার। এই সময়ে অভিষেক ক্যামাক স্ট্রিট থেকে কালীঘাট- এর বাইরে কোথাও গিয়েছেন বলে খবর নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরোননি। জেলা স্তরের নেতাদের আর দোষ দিয়ে লাভ কী! তাঁরা হয় গা-ঢাকা দিয়েছেন কিংবা নিজেদের ঘরবন্দি করে রেখেছেন। তৃণমূলের সাংগঠনিক তৎপরতা বলতে প্রায় রোজ দলের বিভিন্ন স্তরের বৈঠক। সাংসদ, বিধায়ক, পরাজিত প্রার্থী, জেলা পরিষদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একের পর এক বৈঠক চলছে।

তাতে যেসব বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তাতে আর যাই হোক দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা নেই। কর্মসূচি বলতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিন কলকাতায় দলীয় অফিসে রং করতে বেরোবেন বলে ঠিক হয়েছে। একইদিনে রাজ্যজুড়ে নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্তরে দলীয় কার্যালয়ে একই কর্মসূচি নেবেন। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত নেতা-কর্মীদের তাতে কতটা শামিল করানো যাবে- তা নিয়ে সংশয় থাকছেই। তাছাড়া শুধু অফিস রং করার কর্মসূচি দিয়ে মনোবল চাঙ্গা করা যাবে বলে মনে হয় না।

তৃণমূল নেতৃত্ব কার্যত দিশাহীনতায় ভুগছে। প্রশাসন ও পুলিশ নির্ভরতায় এতদিন অভ্যস্ত ছিল দলটি। সাংগঠনিক বিষয়ও ছিল প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতা, এমনকি হস্তক্ষেপের ভিত্তিতে। আরেক নির্ভরতা ছিল পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের ওপর। ভোটপর্বে সেই সংস্থা নিজেরাই বিদায় নিয়েছে। আইপ্যাক শুধু পরামর্শই দিত না, দলীয় নেতা-কর্মীদের কিছু ক্ষেত্রে নির্দেশও দিত। মোটা টাকার বিনিময়ে দলকে কার্যত পরিচালনা করত আইপ্যাক।

সংস্থাটির ওপর এত নির্ভরতা হঠাৎ সরে যাওয়ায় এখন অথই জলে পড়েছে তৃণমূল। যে প্রশ্নটি বিজেপির রাজ্য সভাপতি তুলেছেন, তার যৌক্তিকতা একেবারে অস্বীকার করা যায় না। তিনি বলেছেন, পুলিশি ঘেরাটোপ নেই, তাই অভিষেকও ঘরবন্দি। অন্য নেতারাও কার্যত তাই। দু’পাশে নিরাপত্তার বলয় নিয়ে ঘুরতেন যাঁরা, তাঁরা স্বভাবতই একা কোথাও যেতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে দলের কেউ বিপদে পড়লে বা আক্রান্ত হলে তাঁর পাশে দাঁড়ানো দূরে থাক, খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই।

কালীঘাটে খোদ দলনেত্রীর ডাক থাকলেও অনেক নেতা বৈঠকে হাজির হননি। অথচ একসময় কালীঘাটে যাওয়ার সুযোগ পেলে নেতারা নিজেদের ধন্য মনে করতেন। যেহেতু তিনি প্রার্থী, তাই তৃণমূলের জাহাঙ্গির খান একা কুম্ভ হয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। নির্বাচন মিটে গেলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়ে রেখেছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

জাহাঙ্গির ইতিমধ্যে রক্ষাকবচের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর এত দুঃসময়েও অভিষেক সাহস জোগানোর জন্য ফলতায় গেলেন না। অন্যদিকে, বাংলাজুড়ে একের পর এক তৃণমূল নেতার গ্রেপ্তারি দলের অন্যদের মনে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। কয়েকজন পরিস্থিতি বুঝে আগেই চম্পট দিয়েছেন। সেই তালিকা উত্তরবঙ্গেও দীর্ঘ। যেমন প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ, জলপাইগুড়ির দাপুটে নেতা কৃষ্ণ দাস, দিনহাটা পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান গৌরীশংকর মাহেশ্বরী প্রমুখ।

বিরোধীরা একসময় ব্যঙ্গ করে বলতেন, তৃণমূলে একটাই পোস্ট, বাকি সব ল্যাম্পপোস্ট। ফলে সেই পোস্ট কোনও দিশা দেখাতে না পারলে বাকিদের এগিয়ে যাওয়া পরের কথা, তাঁদের টিকে থাকা দুষ্কর। তৃণমূল নেত্রী এখনও পর্যন্ত অন্তত এমন কিছু ভোকাল টনিক দিতে পারেননি, যাতে দল উজ্জীবিত হয়। তাঁর ‘অনুপ্রেরণায়’ চলতে অভ্যস্ত নেতারা তাই হয় পলাতক না হয় ঘরবন্দি। এগিয়ে চলা এখনও অনেক দূর।

The submit বিষম ফাঁপরে appeared first on Uttarbanga Sambad.



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *