স্বপনকুমার চক্রবর্তী, হবিবপুর: ‘খেজুর গাছে হাঁড়ি বাঁধো মন’—বাঙালির মন সহজে বাঁধা পড়ে যেসব খাবারে, খেজুর গুড় বা খেজুরের রস তার মধ্যে প্রথম সারিতে। শীতের সকালে পাটালি গুড়ের গন্ধ, পিঠে-পায়েসের মিষ্টি স্বাদ, সবই যেন এক অনন্য আনন্দ। কিন্তু এবছর সেই রসনা তৃপ্তিতে পড়ছে ছেদ। এখনও পর্যন্ত দেখা মেলেনি খেজুর রসের। চিন্তায় পড়েছেন খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহকারীরা। মাথায় হাত গুড় তৈরির কারিগরদের। হতাশ গুড়প্রেমীরা।
সাধারণত কালীপুজোর পর থেকেই উত্তরবঙ্গের গ্রামাঞ্চলে শুরু হয় খেজুর রস সংগ্রহের মরশুম। রাতভর গাছের হাঁড়িতে জমে টলমলে রস, ভোরে সেই রস থেকে তৈরি হয় গুড়। কিন্তু এবছর ‘আসছি আসছি’ করেও দেখা নেই শীতের। ফলে খেজুর গাছের রসের ধারাও প্রায় অধরা। স্থানীয় এক শিউলি অনন্ত রায় বলেন, ‘প্রতি বছর কালীপুজোর পরই রস সংগ্রহ শুরু করি। কিন্তু এবছর এখনও তেমন ঠান্ডা পড়েনি, তাই গাছ থেকে রস নামছে না। শীত না পড়লে রসের মানও ভালো হয় না। যত ঠান্ডা আর কুয়াশা বাড়বে, রস তত মিষ্টি আর ঘন হবে।’ রস থেকে গুড় তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরাও চিন্তায়। শীতের হাওয়ার দাপট না থাকায় বাজারে গুড়ের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গুড় তৈরির এক কারিগর আনন্দ রায় বলেন, ‘ডিসেম্বরের আগে যদি আবহাওয়া না বদলায়, তবে খেজুর গুড়ের মরশুমও অনেকটা পিছিয়ে যাবে।’
শিউলিদের আশা, কয়েকদিনের মধ্যেই শীত নামবে পুরোদমে, আর খেজুর গাছে নেমে আসবে সেই কাঙ্ক্ষিত মিষ্টি রসের ধারা।
