রাতের নক্ষত্রখচিত আকাশে হঠাৎই রহস্যময় রঙিন আলো। তা উপর থেকে ক্রমশ দিকচক্রবালের দিকে গিয়ে অন্তর্হতি হয়ে গেল! এমনই দৃশ্যের সাক্ষী হলেন তেহরানের বাসিন্দারা। ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিও। যাকে ঘিরে জল্পনাও শুরু হল জোরকদমে। প্রশ্ন উঠল, ওটা কি ইউএফও? অর্থাৎ ভিনগ্রহীদের যান!
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে তেহরানের আজাদগান এক্সপ্রেসওয়ের কাছে আকাশে উজ্জ্বল ও বহু-রঙা রহস্যময় বস্তুকে ভাসমান অবস্থায় দেখা গিয়েছে। সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সেই ঘটনার একাধিক ভিডিও। ওই বস্তুটি কী? এখনও স্পষ্ট নয়। এতেই নতুন করে ইউএফও রহস্য দানা বেঁধেছে। উড়ন্ত বস্তুটির সঠিক অবস্থান, উচ্চতা, গতি বা আকার সম্পর্কে কোনও তথ্য মেলেনি প্রশাসনের তরফে। যদিও কারও কারও ধারণা, মার্কিন নজরদারি ড্রোন হতেও পারে। যেহেতু ইরান-আমেরিকা উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
আরও পড়ুন:
A Movies displaying vivid, colourful lights over Tehran, Iran, went viral in a single day.#Iran #Tehran #IRGC pic.twitter.com/DU6fNeyK21
— فیصل عزیز (@faisalaziz313) September 21, 2026
আনুষ্ঠানিকভাবে রহস্য উন্মোচন হয়নি বলেই সমাজমাধ্যমে নানা মুণির নানা মত মিলছে। কেউ কেউ যেমন বলছেন সামরিক ড্রোন, কেউ বলছেন আলো লাগানো ঘুড়িও হতে পারে। এইসব জল্পনার মধ্যেই প্রবাণী ইরানিদের মধ্যে ৫০ বছর আগের স্মৃতী উসকে উঠেছে। সেটা ছিল ১৯৭৬ সাল। ১৯ সেপ্টেম্বর। সেবারও তেহরানের রাতের আকাশে দেখা গিয়েছিল অজানা উজ্জ্বল উড়ন্ত বস্ত! সেবার বিষয়টি নিয়ে তদন্তে ইরানের এফ-৪ যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছিল। সাতের দশকের ওই ঘটনা ইউএফও গবেষকদের মধ্যে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। এবারও নতুন করে হইচই শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, যে-প্রশ্ন আমাদের সর্বাধিক নাড়া দেয় তা হল, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে আমরা কি একা?
না কি আমাদের ‘প্যারালাল’ কোনও ইউনিভার্স আছে, যেখানে অস্তিত্ব রয়েছে পৃথিবীর মতো প্রাণেরও? আমরা যেমন তাদের সন্ধান করে চলেছি প্রতিনিয়ত; কে জানে তারাও হয়তো প্রতিনিয়ত খুঁজে চলেছে আমাদের! এই সন্ধানপ্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম– ‘ইউএফও’।
‘ইউএফও’-র অনুসন্ধান যেমন বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রোমাঞ্চকর গবেষণা, তেমনই আকাশপথে নিয়ত যাতায়াতকারী বিমানের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ প্রায় ১৪৪টি দেশের বিভিন্ন মানুষের বয়ানে বারবার উঠে এসেছে ‘ইউএফও’ দেখতে পাওয়ার ঘটনা, এর মধ্যে সবথেকে বেশি তথ্য দিয়েছেন বিমানচালকরা। ‘ইউএফও’ শুধুমাত্র বিজ্ঞানভিত্তিক রহস্য অনুসন্ধান বা গবেষণা নয়; মানুষের নিজেকে জানার, নিজের সীমাকে অতিক্রম করার রূপকও বটে। অজানাকে জানার আকাঙ্ক্ষা, মানবসভ্যতার সীমা এবং আধুনিক জীবনের প্রযুক্তিনির্ভরতা– সবকিছু মিলিয়ে একটি বৃহত্তর সাহিত্যিক ও দার্শনিক আলোচনার পরিসর তৈরি করে এই ধরনের আলোচনা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
