পারিবারিক অনটন ছিল প্রতিদিনের সঙ্গী। মা-বাবা খেতমজুরের কাজ করেছেন। সংসার সামলাতে খেতমজুর হিসাবে কাজ করেছেন তিনি নিজেও। অন্যের দোকানে কাজ করে সামলিয়েছেন সংসার। সেই ছেলে আজ রাজ্যের মন্ত্রী। শনিবার দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০টি রাজ্যের মুখমন্ত্রী সামনে বাংলার মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন অশোক কীর্তনিয়া। খেতমজুরের ছেলে রাজ্যের মন্ত্রী হওয়ায় এলাকার উন্নতির আশায় বুক বাঁধছেন বনগাঁর মতুয়ারা।
এই বিষয়ে আরও খবর
বনগাঁ উত্তর থেকে পরপর দুইবার জিতে মন্ত্রী হলেন অশোক। শনিবার সকালে ব্রিগেড ময়দানে অগণিত জনগণের মাঝে দাঁড়িয়ে শপথ নেওয়ার সময় অশোক বলছেন, “আমি অশোক কীর্তনিয়া বিধি দ্বারা স্থাপিত…।” সেই সময় বনগাঁ শহরের রামনগর রোড এলাকায় বাড়িতে বসে তাঁর বৃদ্ধা মা অহল্যা কীর্তনীয়া টিভিতে ছেলের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান দেখেছেন ৷ চোখের জল মুছতে মুছতে জানান, “সেই কষ্টের দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যাচ্ছে ৷ এমনও দিন গিয়েছে অশোক না খেয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়েছে। আমি চাই ও মানুষের সেবা করুক ৷” এই কাজে যদি কোনও ভুল হয় তাহলে ছেলেকে বকতেও ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন ‘সংগ্রামী’ মা। শপথ গ্রহণের পর বনগাঁর বাড়িতে ফেরেন অশোক। ছেলেকে জড়িয়ে মা বলেন, “মাটিতে পা রেখে চলিস ৷ পুরনো কষ্টের জীবন কখনো ভুলে যাস না ৷ তোর জন্য আমরা গর্বিত ৷” অশোক বাবুর স্ত্রী বলেন, “স্বামী মন্ত্রী হওয়ায় আমারও দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেল ৷”
অশোকবাবু মন্ত্রী হওয়ায় প্রত্যাশা ও উচ্ছ্বাস উদ্বাস্তু মতুয়াদের মধ্যেও ৷ মন্ত্রী অশোক মতুয়া সমাজের লোক ৷ সে কারণেই মতুয়ারা মনে করছেন, তাঁদের নাগরিকত্বের সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে। গণেশ নামে এক মতুয়া ভক্ত বলেন, “ভোটার তালিকা থেকে আমাদের অনেকের নাম বাদ গিয়েছেষ। তবুও মতুয়ারা দু’হাত ভরে ভোট দিয়েছে। আমরা চাই অশোকবাবু আমাদের দাবি পূরণ করুক ৷” এ বিষয়ে অশোকবাবু বলেন, “বিজেপি প্রথম থেকে মতুয়াদের সঙ্গে আছে ৷ আমরা সিএএ সরলীকরণ করে দ্রুত মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ শুরু করব ৷” তিনি আরও জানান, ইছামতী নদী ও যশোর রোড সংস্কার তাঁর প্রধান কাজ। বলেন, “ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি করাও আমার মুখ্য উদ্দেশ্য। যেখানে তৃণমূল বিজেপি কোনও দলের দুষ্কৃতী থাকবে না ৷”
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
