রাজধর্ম

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


রাজধর্ম পালন করাটাই স্বাভাবিক। না করলে রাজধর্ম থেকে বিচ্যুতি হয়। রাজধর্মে ভেদ রাখতে নেই। নিজের লোক, পরের লোক বলে রাজধর্মে কিছু হয় না। আপামর প্রজার হিতসাধনই রাজধর্ম। সেই বিচারে সত্যিই রাজধর্ম পালন করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুতে যথাবিহিত পদক্ষেপ করেছেন। হালিশহরের ওই কর্মীর মৃত্যু হয়েছে পুলিশ হেপাজতে। মৃত্যুর কারণ তদন্তসাপেক্ষ হলেও শুভেন্দু প্রকৃত মুখ্যমন্ত্রীর কাজ করেছেন।

লক আপে মৃত্যু যে বাস্তব, তা দ্বিধাহীনভাবে মেনে নিয়েছেন। মৃত তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে মামলায় তদন্তকারী অফিসারকে সাসপেন্ড করেছেন। সংশ্লিষ্ট থানার আইসি-কে নিয়ম মেনে ক্লোজ করেছেন। ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে হেপাজতে মৃত্যুর তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা শাসককে। এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি নিহতের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন। পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের জমানা তো বটেই, বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনে এমন কখনও ঘটেনি। বিরোধী দলের কোনও নেতা বা কর্মীর লক আপে মৃত্যুতে এরকম পদক্ষেপ আগে দেখা যায়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অসুস্থতার কারণে মৃত্যু বলে ক্লিনচিট দেওয়া হয়েছে। পরিবার খুনের অভিযোগ করলে তার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে বলে অভিযোগ তুলেছে রাজ্য সরকার ও শাসক শিবির। সেই বিচারে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দুর পদক্ষেপ যথাযথ।

রাজধর্মই বটে। কিন্তু খটকা লাগে যখন মুখ্যমন্ত্রী ঢাক পিটিয়ে নিজেই সেই রাজধর্মে পালনের প্রচার করেন। শুধু তাই নয়, সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে রাজধর্মের পাঠ শেখাতে যান, তখন সংশয় জাগে। গোধরায় গণহত্যার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত অটলবিহারী বাজপেয়ী গুজরাটের তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাশে বসিয়ে রাজধর্মের পাঠ দিয়েছিলেন। কিন্তু একবারের জন্যও রাজধর্মের শিক্ষা দিচ্ছেন বলে বাজপেয়ী নিজেকে জাহির করেননি কিংবা কৃতিত্ব দাবি করেননি।

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু বড় মুখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বোঝানোর চেষ্টা করলেন, রাজধর্ম কাকে বলে! বললেন, তিনি তৃণমূল কাউন্সিলারের (মৃতের স্ত্রী) বাড়িতে গিয়েছেন। যেখানে আগের দিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গিয়েছিলেন। শুভেন্দুর অভিযোগ, কিন্তু মমতা মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন রাজ্যে নিহত ৩১৫ জন বিজেপি কর্মীর কারও বাড়িতে গিয়েছেন- এমন উদাহরণ একটিও নেই। কিন্তু দলমতনির্বিশেষে মুখ্যমন্ত্রীকে কী করতে হয়, তা তিনি শিখিয়ে গেলেন বলে শুভেন্দু দাবি করেন।

হক কথা। শুভেন্দু প্রকৃত রাজধর্ম পালন করেছেন। বিরোধী দলের এক কর্মীর পুলিশ হেপাজতে মৃত্যুর ক্ষেত্রে যা যা করণীয়, তার সবই করেছেন। প্রশাসনিক পদক্ষেপ থেকে শুরু করে মৃতের পরিবারের প্রতি মানবিক কর্তব্য ইত্যাদি সবই করেছেন প্রাথমিকভাবে। মমতা কিংবা বামফ্রন্ট শাসকদের সেরকম কিছু করার রেকর্ড নেই বলে শুভেন্দু আঙুল তুলতে পারছেন।

কিন্তু সেই রাজধর্ম পালনের খবর নিয়ে ঢাক পেটানোর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকে বলে মনে হতেই পারে। শুধু হালিশহরের এই ঘটনাটি নয়, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর থেকে গত তিন মাসে যখনই পেরেছেন শুভেন্দু কটাক্ষ করেছেন মমতাকে। কখনও সেই সমালোচনা সৌজন্যের সীমা টপকেছে। কখনও তা ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে পৌঁছেছে। হালিশহরে মমতা আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি মন্তব্য করেছেন, কাদা ছুড়বে না তো কি ফুল ছুড়বে!

বিরোধী দলের নেত্রীর পরিচয় বাদ দিলেও মমতা পশ্চিমবঙ্গের একজন নাগরিক। তাঁর ওপর হামলার ক্ষেত্রে যে রাজধর্ম পালন কাঙ্ক্ষিত ছিল, তা কিন্তু শুভেন্দু করেননি। উচিত ছিল হামলাকারীদের সাজার ব্যবস্থা করা। ঘটনাটির নিন্দা করা। সেসব না করায় মনে হতেই পারে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর রাজধর্ম পালন হয় ক্ষেত্রবিশেষে। যেখানে রাজনৈতিক অভিসন্ধি থাকে! একে কিন্তু যথাযথ রাজধর্ম পালন বলে না।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *