স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে ‘ড্রোনাচার্য’-এর প্রসঙ্গ টানলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পাওয়া শিক্ষা এবং আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব বোঝাতে গিয়েই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের পুরনো আইন বাতিল করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র ৪ গুণ বেড়েছে। দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে দেশ। ২০৪৭ সালে বিকশিত ভারত সংকল্প অপূর্ণ থাকবে না।” মোদি তাঁর ভাষণে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার উপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত কেবল অস্ত্র আমদানিকারক দেশ হিসাবে থাকবে না, বরং বিশ্বে আধুনিক সমরাস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে। এই প্রসঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, বর্তমান যুদ্ধরীতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারত নিজস্ব ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেম এবং হাইপারসনিক প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দেবে।
আরও পড়ুন:
আসলে যত দিন যাচ্ছে, যুদ্ধের চরিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময় যুদ্ধের ময়দানে ট্যাঙ্ক, যুদ্ধবিমানের মতো বড় বড় সামরিক সরঞ্জামই ছিল শক্তির অন্যতম মাপকাঠি ছিল। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ সেই ধারণায় বদল এনেছে। তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন ব্যবহার করে কীভাবে অত্যন্ত দামি ও শক্তিশালী ট্যাঙ্ককে ধ্বংস করা যায়, তার একাধিক উদাহরণ দেখা গিয়েছে। ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে ধ্বংস হয়েছে বড় বড় রুশ ড্রোন। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন এখন আক্রমণ ও প্রতিরোধের অস্ত্র হয়ে উঠেছে। তবে শুধু ইউক্রেন যুদ্ধ নয়, সাম্প্রতিক অতীতে অপারেশন সিঁদুরেও ড্রোনের গুরুত্ব প্রত্যক্ষ করা গিয়েছে।
অন্যদিকে, এদিন মোদির মুখে সেমি কন্ডাক্টর প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। তিনি বলেন, “ভারতে ৩ সেমি কন্ডাক্টর প্লান্ট কাজ করছে। ভারতে তৈরি সেমি কন্ডাক্টর রপ্তানি হচ্ছে। আগামী দিনে ৮টি সেমি কন্ডাক্টর প্লান্ট হবে। ৫টি নতুন পরমাণু চুল্লি এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পরমাণু শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে ভারত। আমাদের নিজেদের ক্ষমতাবৃদ্ধি করতে হবে। নিজের স্বার্থ নিজেকে রক্ষা করতে হবে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
