মৃত্যুর আগে ছেলের মুখ দেখতে পাননি মা! ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্র’কে দুষে চিন্ময় প্রভুর পাশে তসলিমা

ইন্ডিয়া খবর/INDIA
Spread the love


মৃত্যুপথযাত্রী মায়ের শেষ ইচ্ছে ছিল, জেলবন্দি ছেলেকে একটিবার ছুঁয়ে দেখার। পরিবারের তরফে বারবার জামিনের আবেদন করা হয়েছিল বাংলাদেশে প্রায় ২ বছর ধরে জেলবন্দি হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভুর জন্য। কিন্তু জামিন মেলেনি। বৃহস্পতিবার সকালে মায়ের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় কয়েকঘণ্টার জন্য। ফিরে গিয়ে মৃত মায়ের মুখ দেখতে পেলেন চিন্ময় প্রভু। কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় বাংলাদেশের হিন্দু সন্ন্যাসীর পাশে দাঁড়িয়ে ‘রাষ্ট্র’কে দুষলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। ফেসবুকে দীর্ঘ একটি পোস্টে তিনি পরিবর্তিত বাংলাদেশের অপরিবর্তিত বিচারব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন।

তাঁর প্রশ্ন, ‘তারেক রহমান, আপনি “বৈষম্যহীন বাংলাদেশ”-এর কথা বলেন। তাহলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের আচরণের ব্যাখ্যা দিন। কেন আপনার সরকারের একজন মন্ত্রী তাঁর মুক্তির পথ সুগম করার আশ্বাস দিয়েও তা করতে পারলেন না? কেন একজন মৃত্যুপথযাত্রী মায়ের আবেদন রাষ্ট্রের হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছাল না?’

আরও পড়ুন:

তসলিমার পোস্টে লিখেছেন, ‘একজন মা মৃত্যুর আগে তাঁর ছেলেকে একবার দেখতে চেয়েছিলেন। রাষ্ট্র তাঁকে সেই সুযোগ দেয়নি।একজন মৃত্যুপথযাত্রী মায়ের এর চেয়ে স্বাভাবিক মানবিক আবেদন আর কী হতে পারে? তিনি তাঁর সন্তানকে দেখতে চেয়েছিলেন—মাত্র একবার, শেষবার। সন্ধ্যা রাণী ধর আর নেই। মৃত্যুর আগে তাঁর ইচ্ছা ছিল কারাগারে বন্দি ছেলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে একবার দেখবেন। ছেলে এসে পাশে দাঁড়াবে, হয়তো তাঁর হাতটি ধরবে, হয়তো তিনি শেষবারের মতো ছেলের মুখের দিকে তাকাবেন। এতটুকুই। বাংলাদেশ রাষ্ট্র সেই সামান্য চাওয়াটুকুও পূরণ হতে দিল না।’

পারিবারিক সূত্র জানা গিয়েছে, মৃত্যুর আগে গত মঙ্গলবার নিজেই আশ্রমে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন সন্ধ্যারানি ধর। চিন্ময় প্রভুও দীর্ঘদিন এই আশ্রমে থাকতেন। এর আগে অসুস্থ হওয়ার পর চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর ক্যানসার শনাক্ত হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকতে চাইছিলেন না সন্ধ্যারানি। ছেলের আশ্রমেই জীবনের শেষ সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন চিন্ময় প্রভুর মা। এরপর আদালত তাঁকে ৫ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়। বাড়ি ফিরে মৃত মায়ের মুখ দেখতে পান তিনি।

এই পরিপ্রেক্ষিতে তসলিমা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিশানা করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, ‘তারেক রহমান, আপনি “বৈষম্যহীন বাংলাদেশ”-এর কথা বলেন। তাহলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের আচরণের ব্যাখ্যা দিন। কেন আপনার সরকারের একজন মন্ত্রী তাঁর মুক্তির পথ সুগম করার আশ্বাস দিয়েও তা করতে পারলেন না? কেন একজন মৃত্যুপথযাত্রী মায়ের আবেদন রাষ্ট্রের হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছাল না? জন্মাষ্টমীর মঞ্চে দাঁড়িয়ে আপনি যতবারই বলুন, “সবাই বাংলাদেশি”, সেই কথার পাশে সন্ধ্যা রাণী ধরের মৃত্যুশয্যা দাঁড়িয়ে থাকবে এবং প্রশ্ন করবে – তাহলে আমার ছেলে কোথায় ছিল?’

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *