‘ভোটচোর, ওরা ভোটারকে পরোয়া করে না’, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর চড় বিতর্কে মন্তব্য রাহুল গান্ধীর

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


রবিবার রাস্তা পরিদর্শনে বেরিয়ে মেজাজ হারান দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী প্রবেশ বর্মা। এক যুবককে সপাটে চড় মারেন তিনি। ‘এই ঘটনার শিকড় গভীরে প্রথিত। ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা আর ভোটারদের ভয় পান না! পরোয়া করেন না।’ সোমবার এই মন্তব্য করলেন রাহুল গান্ধী।

রবিবার দিল্লির তিলক নগরে দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রীর মেজাজ হারানোর ঘটনা ভাইরাল হয় সামাজমাধ্যমে। আমজনতার সঙ্গে গেরুয়া নেতার ব্যবহার নিয়ে নিন্দায় সরব হয় কংগ্রেস, আপ-সহ বিরোধী দলগুলি। সোমবার এই বিষয়ে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল। তিনি লিখেছেন, “একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে দিল্লির সরকারের এক বিজেপি মন্ত্রী এক যুবককে চড় মারছেন। ওই ব্যক্তির অপরাধ? তিনি ভিডিও করছিলেন। মন্ত্রীর সামনেই রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি চলছিল আর ওই ব্যক্তির হাতে ছিল ক্যামেরা।” কংগ্রেস নেতা লেখেন, “এটি ক্ষমতার এমন এক প্রতিচ্ছবি, যা আর ভোটারদের পরোয়া করে না।”

আরও পড়ুন:

এখানেই না থেমে রাহুল বলেন, “রাস্তায় প্রশ্ন করলে চড়। প্রশ্নফাঁস নিয়ে প্রশ্ন করলে লাঠিচার্জ। সংসদে প্রশ্ন করলে মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়।” বলা বাহুল্য, লাঠিচার্জের বিষয়টি দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভের ঘটনার ইঙ্গিত দেয়। গত ২০ জুলাই বর্ষাকালীন অধিবেশনের শুরুর দিন ‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা যখন সংসদমুখী মিছিল করে, তখন পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। পাশাপাশি সংসদের অধিবেশনে তাঁর বক্তব্য পেশ করার সময় মাইক বন্ধ করে দেওয়ার প্রসঙ্গ টানেন রাহুল।

আরও পড়ুন:

হিন্দিতে করা পোস্টে আদতে ‘ভোটচুরি’ নিয়েও খোঁচা দেন রাহুল। তিনি বলেন, “এরা এমনটা করে কারণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ভয় নেই। ভোটচুরির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়— কেবল নির্বাচনী ফলাফলে জালিয়াতিই নয়, এর জেরে ঔদ্ধত্যের জন্ম হয়। যে সরকার জয় সুনিশ্চিত বা অবধারিত ধরে নেয়, তাদের আর জনগণের সম্মতির প্রয়োজন পড়ে না। তারা কেবল দাবি করে নীরবতা ও অন্ধ আনুগত্য।” যাকে নিয়ে বিতর্ক দিল্লির সেই উপমুখ্যমন্ত্রী প্রবেশ বর্মা পালটা মন্তব্য বলেছেন, “রাহুলজি আপনি বিষয়টি থেকে দূরেই থাকুন। আপনি কিছুই জানেন না।”

প্রসঙ্গত, রবিবার এই ঘটনা ঘটেছে দিল্লির তিলক নগরে। আম আদমি পার্টির তরফে শেয়ার করা এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উপমুখ্যমন্ত্রী বাম হাতে এক যুবকের ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং ডান হাতে তাঁর গালে সপাটে চড় মারছেন। জানা গিয়েছে, নিগৃহীত ওই যুবকের নাম সাহেব। এই হাতাহাতির মাঝে মন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা যুবককে সরিয়ে নিয়ে যান। প্রচুর লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে যান। ভিডিওতে যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘উনি গায়ে হাত তুলছেন কেন?’

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাহেব বলেন, তিনি স্থানীয় বিধায়কের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেল সামলান। পূর্ত দপ্তর থেকে রাস্তা পরিদর্শনের জন্য ডাক পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে আসেন তিনি। যুবকের কথায়, “আমি মন্ত্রীকে দেখাচ্ছিলাম, রাস্তা তৈরির পর কীভাবে রাস্তার উপরিভাগ হাতে উঠে আসছে। রাস্তা তৈরিতে এহেন দুর্নীতি প্রকাশ্যে তুলে ধরায় উনি সহ্য করতে পারেননি। এবং আমায় চড় মারেন। তাঁর সহযোগীরা আমায় খুনের হুমকি দেয়। গোটা ঘটনার সময় সেখানে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও, তাঁরা বিধায়ককে বাধা দেয়নি।” এই ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি ওই মন্ত্রীকে বরখাস্ত করার দাবি তুলেছেন সাহেব। বিজেপির কাছেও তাঁর আবেদন ওনাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হোক।

অন্যদিকে পালটা স্থানীয় আপ বিধায়ক জারনাইল সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ওই বিধায়ক ঠিকাদারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে ও তার জন্য কমিশনের ব্যবস্থা করতে পূর্ত বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারদের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন। রাস্তা নির্মাণের পর রাতে সেই রাস্তা খুঁড়ে ফেলা হয়। এরপর ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করে রাস্তা তৈরিতে দুর্নীতি হয়েছে বলে দেখানোর চেষ্টা হচ্ছিল। ঘটনায় বিজেপির মন্ত্রীও থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *