উৎসবের আনন্দে বিষাদ বয়ে এনেছে চোরবাগান। মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। রবিবার সেই দেহের ময়নাদন্তের রিপোর্টে সামনে এল ভয়াবহ তথ্য। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ভিড়ের চাপ এতটাই ছিল যে নিচে পড়ে যাওয়ার পর পাঁজরের হাড় ভেঙে তা ঢুকে গিয়েছে ফুসফুসে। অন্তত ৬ জনের ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া দমবন্ধ হয়েই মৃত্যু হয়েছে অধিকাংশের।
এই বিষয়ে আরও খবর
ময়নাতদন্তের যে রিপোর্ট সামনে এসেছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, সপ্তমীর রাতে চোরবাগান মণ্ডপে ভয়ংকর ওই দুর্ঘটনায় যে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে প্রায় সকলের মৃত্যুর দমবন্ধ হওয়ার কারণে। এছাড়া ৭ জনের দমবন্ধ হওয়ার পাশাপাশি শরীরের একাধিক প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্তত ৬ জনের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ভিড়ের চাপে পাঁজরের হাড় ভেঙে তা ঢুকে গিয়েছে ফুসফুসের মধ্যে। বাকিদের ক্ষেত্রে হাত-পা ভাঙার পাশাপাশি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও বহু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ রিপোর্টেই স্পষ্ট, সপ্তমীর রাতে কী ভয়াবহ পরিস্থতি তৈরি হয়েছিল চোরবাগানের অভিশপ্ত মণ্ডপে।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ নাগাদ বৃষ্টি শুরু হলে মণ্ডপ থেকে বেরোনোর গেটে ভিড়ের চাপ ব্যাপক বেড়ে যায়। সরু গেট কার্যত আটকে যাওয়ায় মণ্ডপের ভিতরে মানুষের চাপ বাড়ে। একসঙ্গে অনেকে বেরোনোর চেষ্টা করায় ভিড়ের চাপে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ও একজনকে সরকারি চাকরি এবং আহতদের ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।
চোরবাগান বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে শহরের বড় পুজো মণ্ডপে ভিআইপি পাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। সবাইকে এবার একটা লাইন দিয়েই ঢুকতে হবে। ভবানীভবনে বৈঠকের পর বড় নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তাঁর কথায়, দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে যা করার করা হচ্ছে। এদিকে এই ঘটনার পরেই বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠান কাটছাঁট করার সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর। আগামী ২৬ তারিখ রাজ্যের উদ্যোগে বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠান রয়েছে। সেই অনুষ্ঠান একেবারে আড়ম্বরবর্জিত হবে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, সমস্ত কমিটিকে আগামী ২৬ তারিখ ডাকা হচ্ছে। সেখানে মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পাশাপাশি আহতদের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হবে।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
