পুজোর আনন্দেও মেজাজ খিটখিটে, অল্পতেই রাগ? কোন অভ্যাসে বিগড়োচ্ছে মেজাজ?

সিনেমা/বিনোদন/থিয়েটার
Spread the love


ঢাকের আওয়াজ, নতুন পোশাক, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর রাতভর প্যান্ডেল হপিং- দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। কিন্তু উৎসবের আনন্দে মেতে থাকতে গিয়ে যদি কমে যায় ঘুম, অনিয়মিত হয়ে পড়ে খাওয়াদাওয়া আর বেড়ে যায় ব্যস্ততা, তা হলে শরীরের পাশাপাশি ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে মনও। পুজোর ছুটিতেও কেন বাড়তে পারে মানসিক ক্লান্তি? কীভাবে বুঝবেন সমস্যার লক্ষণ?

durga puja mental health sleep stress
সামান্য কথাতেই রাগ? ছবি: সংগৃহীত

আরও পড়ুন:

রাত জাগা ও ঘুমের ঘাটতিতে বাড়তে পারে ক্লান্তি
পুজোর সময় ঠাকুর দেখতে বেরনো বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে অনেকেই রাত জাগেন। এর ফলে কয়েক দিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগের অভাব, বিরক্তি এবং ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন:

ঘুমের ঘাটতি আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। তাই পুজোর আনন্দে রাত জাগলেও পর্যাপ্ত বিশ্রামের দিকে নজর রাখা জরুরি।

অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া ও অতিরিক্ত ব্যস্ততার প্রভাব
পুজোর সময় বিরিয়ানি, রোল, চাউমিন বা মিষ্টির মতো মুখরোচক খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। প্যান্ডেল হপিংয়ের ব্যস্ততায় অনেকে সময়মতো খাবার খান না, আবার পর্যাপ্ত জল পান করতেও ভুলে যান। এর ফলে দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি হতে পারে, যা দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি মেজাজেও প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, একের পর এক প্যান্ডেল ঘোরা, যানজট, অতিরিক্ত ভিড় এবং সব পরিকল্পনা পূরণ করার চাপও মানসিক ক্লান্তি বাড়াতে পারে। সোশাল মিডিয়ায় অন্যদের আনন্দের সঙ্গে নিজের পুজোর তুলনা করতে গিয়েও কারও কারও মধ্যে হতাশার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

durga puja mental health sleep stress
শুধু শরীর নয়, মনেও যত্নের প্রয়োজন। ছবি: সংগৃহীত

মানসিক ক্লান্তি কমাতে কী করবেন?
পুজোর আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি শরীর ও মনের যত্ন নেওয়াও জরুরি। তার জন্য কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চলতে পারেন-

  • পর্যাপ্ত ঘুম: প্রতিদিন ঘুমের জন্য যথেষ্ট সময় রাখুন। একটানা রাত জাগা এড়িয়ে চলুন।
  • নিয়মিত খাওয়াদাওয়া: সময়মতো খাবার খান এবং পর্যাপ্ত জল পান করুন।
  • পরিকল্পনায় ভারসাম্য: একদিনে অতিরিক্ত ঘোরাঘুরির পরিকল্পনা না করাই ভালো।
  • নিজের জন্য সময়: ভিড় ও ব্যস্ততার মাঝে কিছুটা সময় নিরিবিলিতে কাটান।
  • তুলনা এড়িয়ে চলুন: সোশাল মিডিয়ায় অন্যের সঙ্গে নিজের পুজোর আনন্দের তুলনা না করে নিজের মতো করে উৎসব উপভোগ করুন।

উৎসবের আনন্দের সঙ্গে মানসিক সুস্থতাও জরুরি
পুজোর ছুটি মানেই শুধু ঘোরাঘুরি বা রাত জাগা নয়, প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিজের মতো করে আনন্দ উপভোগ করাও। তাই সব পরিকল্পনা পূরণ করার চাপে শরীর ও মনের প্রয়োজনকে অবহেলা করবেন না।

মনে রাখবেন, কয়েক দিন অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে ক্লান্তি বা মেজাজের পরিবর্তন হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা বা কোনও কিছুতেই আগ্রহ না পাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন শরীরের পাশাপাশি মনও থাকে সতেজ। তাই পুজোর আনন্দ উপভোগ করুন, তবে ঘুম, বিশ্রাম ও মানসিক সুস্থতার সঙ্গে আপস করে নয়।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *