সিউড়ি তৃণমূল কার্যালয়ে অনুব্রত মণ্ডলকে হুমকি ও হেনস্তার ঘটনার পর কেটে গিয়েছে বেশ কয়েক দিন। তার পরেও সিউড়ির দলীয় কার্যালয়ে অনুব্রত মণ্ডলের প্রত্যাবর্তন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক থামেনি। অবশেষে শনিবার মহালয়ার বিকেলে পুলিশি নিরাপত্তায় সিউড়ির কার্যালয়ে এলেন অনুব্রত। তবে এসে অবশ্য দীর্ঘক্ষণ থাকেননি তিনি। কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এবং অফিসের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই ফিরে যান। তবে হামলার পর কেন পুলিশে অভিযোগ জানালেন তা নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন কেষ্টা!
৩০ সেপ্টেম্বরের ঘটনা সম্পূর্ণ সাজানো এবং নিরাপত্তা পাওয়ার জন্য অনুব্রত নিজেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন বলে একাধিকবার দাবি জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। তা নিয়েও এদিন মুখ খুলেছেন অনুব্রত মণ্ডল।
আরও পড়ুন:
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সিউড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে বসে থাকার সময় অনুব্রত মণ্ডলকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয়, তিন যুবক একেবারে বাঁশ, লাঠি হাতে তাঁর অফিসে ভাঙচুর চালায় বলেও অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। একেবারে কড়া নিরাপত্তায় অনুব্রতকে সিউড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ অভিযুক্ত তিন যুবককে আটক করে। কিন্তু লিখিত অভিযোগ না থাকায় বন্ডে সই করিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেয়। পরদিন বোলপুরে অনুব্রতের সঙ্গে দেখা করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের নেতারা। সেখানেই শুক্রবার সিউড়ির কার্যালয়ে ফেরার কথা জানিয়েছিলেন অনুব্রত। কিন্তু নির্ধারিত দিনে তাঁর দেখা মেলেনি। শেষ পর্যন্ত শনিবার তাঁর উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়।
এ দিন কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের পুজোর নতুন পোশাক দেন অনুব্রত। পাশাপাশি ভাঙচুরের পর ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রী মেরামত করা হয়েছে কি না, তা জানতে চান। কর্মী রান্ত কাহার জানান, সবকিছু ঠিক করে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা অনুব্রতকে জানিয়েছেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অনুব্রত বলেন, শুক্রবার ব্যক্তিগত কাজ থাকায় আসতে পারেননি। কিন্তু হেনস্তা কিংবা ভাঙচুরের ঘটনায় কেন মামলা দায়ের করলেন না? এক্ষেত্রে অনুব্রত মণ্ডলের দাবি, জীবনে কারও বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ দায়ের করেননি। এমনকী বামফ্রন্টের আমলেও অশান্তির ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ করেননি বলেও দাবি তাঁর। একসময়ের বীরভূমের ‘বাঘ’ অনুব্রত বলেন, “আমি কেসে বিশ্বাস করি না।” ঘটনার পর নিরাপত্তারক্ষী পাওয়া প্রসঙ্গে অনুব্রত বলেন, “২০০৬ সাল থেকে আমার নিরাপত্তারক্ষী রয়েছে।”
অন্যদিকে ৩০ সেপ্টেম্বরের ঘটনা সম্পূর্ণ সাজানো এবং নিরাপত্তা পাওয়ার জন্য অনুব্রত নিজেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন বলে একাধিকবার দাবি জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। সেই প্রসঙ্গে এ দিন অনুব্রত মণ্ডলকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাফ জানান, “এগুলো কিছু সংবাদ মাধ্যমের মস্তিষ্কপ্রসূত ছাড়া আর কিছুই নয়।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
