ভারতের জন্মহার নিয়ে এবার উদ্বেগ প্রকাশ করলেন টেসলা কর্তা এলন মাস্ক। তিনি জানালেন, এদেশের জন্মহার ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’ বা প্রতিস্থাপন স্তরের নিচে নেমে গিয়েছে, যা যথেষ্ট চিন্তার বিষয়।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে মোট প্রজনন হার প্রতি নারীর ক্ষেত্রে ১.৯-এ নেমে এসেছে। এক দশক আগে এই হার ছিল প্রায় ২.৩। এর ফলে প্রথমবারের মতো দেশের প্রজনন হার ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’-এর নিচে নেমে গিয়েছে। তথ্য বলছে, বর্তমানে বিহার, উত্তরপ্রদেশ-সহ মাত্র কয়েকটি রাজ্যই এখনও এই স্তরের উপরে রয়েছে। দেশের অধিকাংশ রাজ্যে প্রজনন হার ইতিমধ্যেই ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেলে’র নিচে নেমে গিয়েছে। রাজধানী দিল্লিতে প্রজনন হারের উল্লেখযোগ্যভাবে পতন হয়েছে। সেখানকার প্রজনন হার ১.২, যা ইউরোপের ফিনল্যান্ডের তুলনাতেও কম।
আরও পড়ুন:
কী এই ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’? এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার জন্য একজন মহিলার গড়ে যতগুলি সন্তান থাকা প্রয়োজন, তাকেই ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’ বা প্রতিস্থাপন স্তর বলা হয়। সাধারণভাবে এই হার ২.১ হিসাবে ধরা হয়। ভারতের বর্তমান জনসংখ্যা ১.৪৬ বিলিয়নেরও বেশি। ২০২৩ সালে ভারত চিনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হয়ে উঠেছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র জনসংখ্যার আকারই দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধির নিশ্চয়তা দেয় না, বিশেষ করে যখন জন্মহার নিম্নমুখী।
ভারতের জন্মহার নিয়ে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যাটি শেয়ার করেছেন মাস্ক। তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘ভারতের জন্মহার রিপ্লেসমেন্ট লেভেলের নিচে নেমে গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সবচেয়ে শিক্ষিতদের মধ্যেও ভারতের জন্মহার বহু বছর আগেই রিপ্লেসমেন্ট লেভেলের নিচে নেমে গিয়েছে।’
ভারতের জন্মহার কেন কমছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে প্রজনন হার ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ার নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে। বিশেষ করে নারীদের শিক্ষার হার বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ণ, কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, দেরিতে বিয়ে করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। এই প্রবণতা দেশের বড় শহরগুলিতে আরও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
