বিহার ভাগ্য

বিহার ভাগ্য

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


উৎসবের মরশুম শেষ। ভোটপর্ব শুরু। বহুচর্চিত হাইভোল্টেজ বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম ভোটগ্রহণ ৬ নভেম্বর। দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট ১১ নভেম্বর। ২০২০-এ অবশ্য বিহারে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল তিন দফায়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে বিতর্কের কারণে বেশ কিছুদিন ধরে দেশের মানুষের নজর বিহারের ভোটে।

এই রাজ্যে বিরোধী মহাগঠবন্ধনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আরজেডি, কংগ্রেস, সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের মধ্যে এবার তুমুল ঝামেলা হয়েছে।‌ শরিকি রেষারেষি চলেছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষমুহূর্ত তো বটেই, তার পরেও। আসন বণ্টন ছাড়াও আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবকে মহাজোটের মুখ্যমন্ত্রী-মুখ করা নিয়েও ‘ইন্ডিয়া’ জোটে সমস্যা কম হয়নি।

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধির সঙ্গে সতেরো দিন ধরে বিহারে ভোটার অধিকার যাত্রা করলেও তেজস্বীকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মুখ্যমন্ত্রী-মুখ হিসেবে মেনে নিতে রাজি ছিল না কংগ্রেস।‌ পরিস্থিতি সামাল দিতে এআইসিসি-র বর্ষীয়ান নেতা অশোক গেহলটকে শেষপর্যন্ত পাটনা গিয়ে লালু-তেজস্বীর সঙ্গে বৈঠক করতে হয়। তারপরেও জট পুরোপুরি কেটে গিয়েছে বলার সময় আসেনি।

‘ইন্ডিয়া’ জোট নানারকম সমস্যায় জর্জরিত হলেও এনডিএ তুলনামূলকভাবে কিছুটা হলে স্বস্তিতে। মূলত জেডিইউ, বিজেপি, লোক জনশক্তি পার্টিকে (রামবিলাস) নিয়ে গঠিত এনডিএ-র মুখ্যমন্ত্রী-মুখ নিয়ে অবশ্য সমস্যা আছে। এই প্রশ্নের সমাধান হয়নি যে, এনডিএ জিতলে ফের নীতীশ কুমারই মুখ্যমন্ত্রী হবেন নাকি অন্য কাউকে বেছে নেওয়া হবে?

বিহারে ভোটপ্রচারে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এই প্রশ্ন করেছিলেন সাংবাদিকরা।‌ সরাসরি জবাব না দিয়ে মোদি শুধু বলেন, নীতীশজির নেতৃত্বে এনডিএ লড়বে বিহারে।

দীর্ঘদিন খুব দরিদ্র রাজ্য বলে পরিচিতি ছিল বিহারের। স্বাধীনতার পর প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিং ১৪ বছর ওই পদে ছিলেন। পরবর্তী ৩০ বছর বিহার কাটিয়েছে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে।‌ কোনও সরকারই দু-এক বছরের বেশি টেকেনি।‌ ওই ৩০ বছরে বিহারে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসেন মোট ২৩ জন। রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হয় আটবার।

১৯৯০ সালে লালুপ্রসাদ যাদব মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর রাজনৈতিক সুস্থিতি আসে বিহারে। লালু-রাবড়ি মিলে ১৫ বছর বিহার শাসন করেছেন। তারপর থেকে বিহার কার্যত নীতীশের হাতে। মাঝে এক বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জিতনরাম মাজি। লালু-রাবড়ির জমানায় সুস্থিতি এলেও রাজ্যে দারিদ্র্য পৌঁছায় চরমে। বলতে গেলে নীতীশের আমলে সমৃদ্ধির মুখ প্রথম দেখেছিল বিহার।

এবারের ভোটে ইস্তাহারে দিলদরিয়া বিহারের শাসক-বিরোধী দু’পক্ষই। এনডিএ-র ‘সংকল্পপত্রে’ যেমন প্রতিশ্রুতির ছড়াছড়ি, তেমনই মহাজোটের ‘তেজস্বী প্রাণপত্রে’ ২৫ দফা অঙ্গীকার। এনডিএ জিতলে এবারও নীতীশকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে কি না, সেটা এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। কারণ, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে তাঁর আচরণ অস্বাভাবিক ঠেকছে অনেকের কােছ। এতে নীতীশের মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

কখনও কোনও সমাবেশ-মঞ্চে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে প্রণাম করতে যাচ্ছেন আবার কোনও মঞ্চে মহিলা বিধায়কের গলায় মালা পরাতে চাইছেন। নীতীশের এইসব কাণ্ড যথেষ্ট হাসির খোরাক হয়ে উঠেছে। তবে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিচার করলে মানতেই হবে যে, নীতীশ জমানার প্রথম পাঁচ বছর সত্যিই ছিল অসাধারণ। রাস্তাঘাট নির্মাণ, শিল্প-কলকারখানা স্থাপন ইত্যাদি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিকাঠামো গড়ে তোলা, চুরি-ডাকাতি-অপহরণ সহ নানা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, নকশাল দমন- এজাতীয় সব কিছুতে নীতীশ সরকারের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।

তবে জোট হিসেবে প্রথমে বিজেপি, তারপর আরজেডি, শেষে আবার বিজেপির সঙ্গে তিনি।‌ কাজের বিচারে নীতীশ নিঃসন্দেহে বিহারে এযাবৎ কালের সেরা মুখ্যমন্ত্রী। নীতীশই উন্নয়নের ভিত গড়ে দিয়েছেন রাজ্যে। উন্নত রাজ্য বানাতে তাঁর হাতেই আবার বিহারবাসী ব্যাটন তুলে দেন কি না, কিংবা এনডিএ তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করবে কি না- সেটা এখনও অনিশ্চিত।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *