উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ইরানের কিশ আইল্যান্ডে (Kish Island) অনুষ্ঠিত একটি ম্যারাথনে মহিলাদের হিজাব না পরে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়ায় ওই অনুষ্ঠানের আয়োজকদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে ইরানের বিচার বিভাগ। শুক্রবারের এই দৌড়ের প্রতিযোগিনীদের হিজাববিহীন ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
কিশ দ্বীপে অনুষ্ঠিত এই ম্যারাথনে প্রায় ২,০০০ মহিলা এবং ৩,০০০ পুরুষ আলাদাভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সূত্রের খবর, মহিলারা লাল টি-শার্ট পরেছিলেন, কিন্তু তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের মাথায় হিজাব বা অন্য কোনও আবরণ ছিল না।
ইরানের বিচার বিভাগের ‘মিজান অনলাইন’ ওয়েবসাইট শনিবার জানায়, “প্রতিযোগিতার প্রধান দুই আয়োজককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে ১ জন কিশ ফ্রি জোনের কর্মকর্তা এবং অন্যজন রেস আয়োজনের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি সংস্থার কর্মী।”
এই ঘটনা ইরানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। যারা ইসলামী দেশে পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করেন তাঁদের মতে, এটি প্রমাণ করে যে, ইরানের মহিলারা পোশাকের উপর প্রশাসনের চাপানো বিধিনিষেধ প্রত্যাখ্যান করছেন। অপরদিকে, ইরানের কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে “স্থিতাবস্থার প্রতি অগ্রহণযোগ্য চ্যালেঞ্জ” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
কিশের স্থানীয় প্রসিকিউটর যুক্তি দেন যে, ম্যারাথনটি যে পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়েছে, তা নাকি নিজেই “জনসাধারণের শালীনতার লঙ্ঘন”। তিনি বলেন, “দেশের বর্তমান আইন ও নিয়মাবলী এবং ধর্মীয়, ঐতিহ্যগত ও পেশাদার নীতিগুলি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আগে থেকে সতর্ক করা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি এমনভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা জনসাধারণের শালীনতা লঙ্ঘন করেছে।”
উল্লেখ্য, প্রায় ৩ বছর আগে মাহসা আমিনির (Mahsa Amini) মৃত্যুতে ইরান জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। কুর্দিশ ইরানি ওই মহিলাকে পোশাক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছিল এবং পরে পুলিশ হেপাজতে তাঁর মৃত্যু হয়। ইসলামিক দেশটি বলপ্রয়োগ করে সেই হিংসাত্মক বিক্ষোভ দমন করলেও, কিছু মহিলা এখনও পোশাকের ওপর চাপানো নিয়ম অমান্য করে চলেছেন। কিশ আইল্যান্ডের এই ঘটনা সেই সংঘাতের নতুন প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
