বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যের বিগত সরকারগুলির নীতি ও আদর্শেরই সমালোচনা করলেন আচার্য তথা রাজ্যপাল আর এন রবি। কারও নাম না করে তিনি তোপ দেগে বলেন বিকৃত আদর্শ ও ভ্রান্ত রাজনীতি এই রাজ্যের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। তিনি বলেছেন, “স্বাধীনতার প্রাক্কালে বাংলা ছিল সমগ্র দেশের আলোকবর্তিকা। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ছিল এই বাংলা। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও বাংলা ছিল অগ্রপথিক। ষাটের দশকে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের দেখে ঈর্ষাবোধ করতাম। সেই গৌরবোজ্জ্বল দিনগুলোতে দেশের মোট জিডিপি-র প্রায় ১১ শতাংশই আসত কেবল এই বাংলা থেকে। কিন্তু এরপরই শুরু হল আমাদের অধঃপতন। সেই পতন শুরু হওয়ার ফলে একসময় আমরা পরিণত হলাম এক চরম দুর্দশাগ্রস্ত ও পরনির্ভরশীল রাজ্যে। এক বিকৃত আদর্শ ও ভ্রান্ত রাজনীতিই এই রাজ্যের সর্বনাশ ডেকে এনেছিল।” তবে বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূল বলেও দাবি করেছেন তিনি।
এ দিন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ তম সমাবর্তন উৎসবে যোগদেন রাজ্যপাল। শিক্ষা, গবেষণা ও জাতীয় প্রগতির পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবেশ নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তাও দিয়েছেন রাজ্যপাল। রাজ্যের পূর্বতন রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাবকে কাঠগড়ায় তুলতে ছাড়েননি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত উৎকর্ষ ও মেধা সম্পদ বৃদ্ধির প্রশংসা করেন। গত তিন বছরে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি পেটেন্ট বা স্বত্ব অর্জনের সাফল্যকে তিনি সাধুবাদ জানান। একই সঙ্গে বর্তমান ‘জ্ঞান ও প্রযুক্তির’ যুগে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের মেধা সম্পদ সৃষ্টিকে বৈশ্বিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে রাজ্যপাল বলেন, “জাতীয় শিক্ষানীতির মাধ্যমে বর্তমান তরুণ প্রজন্ম আজ ‘চাকরিপ্রার্থী’ না হয়ে ‘চাকরিদাতা’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলার তরুণ ও নারী শক্তিকে সমস্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধা ভেঙে বড় স্বপ্ন দেখার এবং দেশের চালকের আসনে বসার আহ্বানও জানান তিনি।
আরও পড়ুন:
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ডি এস সি উপাধি দেওয়া হয়েছে ইসরোর চেয়ারম্যান ড. এস সোমনাথ, এম পি বিড়লা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ ও এমপি বিড়লা প্লানেটরিয়াম কলকাতার পূর্বতন অধিকর্তা ড.দেবীপ্রসাদ দুয়ারীকে। ডিলিট উপাধি দেওয়া হয়েছে স্কটল্যান্ড এর এডিনবার্গ নেপিয়ার ইউনিভার্সিটির ইংরেজি ও ক্রিয়েটিভ রাইটিং এর অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা ড.বাসবী ফ্রেজারকে। বিবেকানন্দ স্মৃতি গবেষণার পদক পেয়েছেন অর্থনীতির অধ্যাপক ড.রমেশচন্দ্র দাস। বিদ্যাসাগর স্মৃতি গবেষণা পদক পেয়েছেন মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক ড. কেশবচন্দ্র মন্ডল। এ ছাড়াও বিগত ২০২৩ সাল থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট উপাধিপ্রাপ্ত গবেষকদের শংসাপত্র প্রদান করা হয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
