‘বাম বধ’ ডাক দিয়ে এসইউসিআই-এর স্টলে হামলা ট্যাংরায়! ফেলা হল ক্ষুদিরাম-বিদ্যাসাগরের বই

স্বাস্থ্য/HEALTH
Spread the love


আইনি জট কাটিয়ে দুর্গাপুজোয় রাজ্যজুড়ে বিপুল সংখ্যক বুকস্টল বসিয়েছে সিপিএম ও অন্যান্য বাম ও বামমনস্ক দলগুলি। কিন্তু প্রায় সর্বত্রই এই ‘মার্কসীয় ও প্রগতিশীল সাহিত্যের বুক স্টলে’ হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে চলেছে। বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুর, নৈহাটি, নোয়াপাড়া, পলতায় সিপিএমের বুকস্টল ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ ওঠে। তিনটি ঘটনার পিছনেই বিজেপিকে দায়ী করেছে বাম নেতৃত্ব। আর শুক্রবার, ষষ্ঠীতে খাস কলকাতার একাধিক জায়গায় সিপিএমের বুকস্টলে হামলার অভিযোগ উঠল। ট্যাংরার কামারডাঙায় একটি পুজোমণ্ডপের সামনে এসইউসিআই-এর বুকস্টলে অতর্কিত আক্রমণ হয় বলে লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছে দলের রাজ্য কমিটি। শুধু তাই নয়, এসইউসিআই-এর আরও অভিযোগ, ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে স্টলে থাকা বিদ্যাসাগর, ক্ষুদিরাম এবং কমরেড শিবদাস ঘোষের চিন্তাসম্বলিত বইও।

৫৬ নং ওয়ার্ড এলাকায় সিপিএমের স্টলে ভাঙচুর, নিজস্ব ছবি

আরও পড়ুন:

আগেই কামারডাঙা দুর্গোৎসব কমিটির নামে ‘বাম বধে’র যে নিদান সুরজ কুমার সিংয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়, তা নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে এলাকার মানুষের প্রবল ক্ষোভ ছিল। এসইউসিআই-এর তরফে রাজ্য কমিটির সদস্য সমরেন্দ্র প্রতিহার বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, ‘আমরা স্টল করতে গেলে প্রথমে সুরজ কুমার সিং এবং অভিজিৎ গুপ্তা, তার দলবল-সহ এসে ঝামেলা করতে থাকে আমাদের বুক স্টলের হোর্ডিং ছিড়ে ফেলে। শ্রমিক আন্দোলনের প্রবীণ নেতা কমরেড তপন মুখার্জি আহত হন। এলাকার সাধারণ মানুষ আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়ায়। পুলিশ এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বরানগরে প্রতিবছর এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট)এর থেকে তিনটি স্টল হলেও এ বছর পুলিশ মাত্র একটির অনুমতি দিয়েছিল। টবিন রোডের সেই স্টলটিও আজ পুলিশ এসে খুলতে বাধ্য করেছে। বলেছে, উপর থেকে চাপ রয়েছে আমাদের কিছু করার নেই। রিজেন্ট পার্কে ওয়ারলেস মোড়ে শুধুমাত্র টেবিল নিয়ে বসতেও অনুমতি দেয়নি। বেলেঘাটায় ফুলবাগান মোড়ে পুলিশের অনুমতি নিয়ে করা স্টলও পুলিশ আজ জোর করে খুলে দিয়েছে। আজ সন্ধ্যায় বেহালা জেমস লং কদমতলা পূর্ব পাড়ার স্টলে এক বাইক বাহিনী এসে হামলা চালিয়ে ভেঙে দেয়।’

শুক্রবার রাতের দিকে ঢাকুরিয়া এসবিআইয়ের সামনে বসা সিপিআইয়ের বুকস্টল থেকে এক কমরেডকে তুলে দেওয়া হয়। জোড়াসাঁকোতেও স্টল ভাঙচুর করার অভিযোগ মিলেছে। বামদলগুলির বক্তব্য, ‘আমরা মনে করি এই আক্রমণ শুধু বামপন্থী দলগুলির উপর নয়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চার উপরও আক্রমণ। এই আক্রমণের নিন্দা করার জন্য কোনও ভাষাই যথেষ্ট নয়। বিজেপির স্বৈরাচারী অগণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ রাজ্যের দীর্ঘ ঐতিহ্য সম্পন্ন শারদীয় বুকস্টল করতে বাধা দেওয়া। আমরা রাজ্যের গণতান্ত্রিক চেতনা সম্পন্ন মানুষদের এই হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *