বাড়ির দেনা শোধ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ! চেন্নাইকে জেতানো কার্তিকের ক্রিকেট শুরু বাবার দোকান বেচে

বাড়ির দেনা শোধ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ! চেন্নাইকে জেতানো কার্তিকের ক্রিকেট শুরু বাবার দোকান বেচে

ইন্ডিয়া খবর/INDIA
Spread the love


বাবা বলেছিলেন, বল ডিফেন্স করলেই মারবেন। তাই চার-ছক্কা মারা অভ্যাস করেছিলেন রাজস্থানের ভরতপুরের এক কিশোর ক্রিকেটার। বাড়িতে অভাব। দোকান বিক্রি করে ছেলের ক্রিকেট স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছিলেন মনোজ শর্মা। সোনার গহনা বেচে দিয়েছিলেন মা। আইপিএল নিলামে ১৪.২০ কোটি টাকায় সিএসকে তুলে নেওয়ার পর কার্তিক শর্মার প্রথম লক্ষ্য ছিল পরিবারের দেনা শোধ করা। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে যে ফর্মে ছিলেন, সেই ম্যাজিক ব্যাটটা খুঁজে পাচ্ছিলেন না ২০ বছর বয়সি ক্রিকেটার। অবশেষে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ঠান্ডা মাথায় হাফসেঞ্চুরি করে চেন্নাইকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন কার্তিক।

এই বিষয়ে আরও খবর

ভরতপুর এমনিতে পাখির জন্য বিখ্যাত। সেখানের এক তরুণের উড়ান দেখার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন অনেকে। সেই ইনিংসটা এল আইপিএলের ‘এল ক্লাসিকো’য়। ৪০ বলে ৫৪ রানের ঝকঝকে ইনিংসে ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে প্লেঅফের লড়াইয়ে ভেসে রইল চেন্নাই। বাবার কথামতো ৪টে চার ও তিনটে ছক্কা হাঁকিয়েছেন কার্তিক। আর ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়ারের (৬৭) সঙ্গে স্ট্রাইক রোটেট করে গিয়েছেন। অধিনায়ক তাঁকে পথ দেখিয়েছেন। আর কার্তিক মাথা ঠান্ডা রেখে ধীরে ধীরে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে গিয়েছেন। আবার প্রয়োজনে রানের গতি বাড়িয়েছেন।

মাত্র ৪ বছর বয়সে ক্রিকেট শুরু কার্তিকের। বাবারও ইচ্ছা ছিল ক্রিকেটার হওয়ার। চোটের জন্য সেই স্বপ্নপূরণ হয়নি। ৭ বছর বয়সে কার্তিককে ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে নিয়ে গেলেও প্রথমে সেখানকার কোচ ভর্তি নিতে রাজি হননি। কিন্তু একটা বল খেলার পরই সিদ্ধান্ত বদলান কোচ। কার্তিকের সফর শুরু। কিন্তু বাড়িতে যে অভাব। বাবার ইংরেজি কোচিং ক্লাস ছিল। ছেলের জন্য সেগুলো বন্ধ করে দেন। বাড়িতে বোলিং মেশিন বসান। ৬টা দোকান ছিল, তার মধ্যে চারটে বেচে দিতে হয়। বিক্রি হয়ে যায় মায়ের সোনার গহনাও। মোট ২৬ লক্ষ টাকার দেনা ছিল। নিলামে ১৪ কোটি পাওয়ার পর নিশ্চয়ই সেই দেনা শোধ করেছেন। এবার তাঁর ব্যাট কথা বলে উঠল। টাকার দেনা শোধ করা যায়, কিন্তু বাবা-মায়ের ত্যাগ তো আর শোধ করা যায় না। কিন্তু এদিন কার্তিকের ইনিংসে যেন পরিবারের পরিশ্রমের যোগ্য মর্যাদা দিল।

এই বিষয়ে আরও খবর

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *