উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পাকিস্তানের গ্বাদার ফ্রি জোনে (Gwadar Port) বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে চিনা বিনিয়োগ (Gwadar CPEC Information)। প্রতিকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং ক্রমাগত আর্থিক ক্ষতির কারণ দেখিয়ে একটি চিনা কোম্পানি গ্বাদারে তাদের কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করেছে। এর ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ওই কারখানার সমস্ত কর্মী।
সংবাদমাধ্যম ‘দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, হ্যাঙ্গেং ট্রেড কোম্পানি ১ মে, আন্তর্জাতিক শ্রম দিবসেই আনুষ্ঠানিক ভাবে তাদের কারখানা বন্ধের ঘোষণা করে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একাধিক ‘নন-কমার্শিয়াল ফ্যাক্টর’ বা অ-ব্যবসায়িক কারণ এবং পরিচালনাগত জটিলতার কারণে পাকিস্তানে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তারা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পণ্য উৎপাদন করলেও তা রপ্তানির ক্ষেত্রে বারবার বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছিল। কারখানা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ উৎপাদিত পণ্য বিদেশে পাঠাতে গিয়ে প্রশাসনিক ও কৌশলগত সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। রপ্তানি আটকে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক ভাবে সংস্থাটি আর্থিক লোকসানের শিকার হয়েছে।
গত তিন মাস ধরে পাকিস্তানের প্রশাসনের সঙ্গে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনও কার্যকর ফল মেলেনি। কারখানা বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংস্থাটি তাদের সমস্ত আর্থিক দায়বদ্ধতা পূরণ করেছে বলে দাবি করেছে। এবিষয়ে তারা জানিয়েছে, কর্মীদের গত তিন মাসের বেতন ও প্রয়োজনীয় জরিমানা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুতের বকেয়া বিল এবং কন্টেনার ডেমারেজ চার্জও পরিশোধ করা হয়েছে।
গ্বাদার বন্দর প্রকল্প চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের (CPEC) অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। চিনা সংস্থাটি জানিয়েছে, পাকিস্তান ও চিনের গভীর বন্ধুত্বের (China-Pakistan Relations)
কথা মাথায় রেখেই তারা এই বিনিয়োগ করেছিল। তবে তাদের স্পষ্ট বক্তব্য— “শুধুমাত্র সদিচ্ছা দিয়ে ব্যবসা চলে না, তার জন্য পরিষ্কার নীতি এবং কার্যকর পরিবেশ প্রয়োজন।” আর এতেই প্রশ্নের মুখে সিপেক (CPEC) ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক।
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চলতি মাসের শেষেই চিন সফরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেখানে একটি বড় বিনিয়োগ ফোরামে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনা সংস্থার এই প্রস্থান গ্বাদারে বিদেশি বিনিয়োগের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্ববাজারে নেতিবাচক বার্তা দেবে, যা পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে।
