ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা। সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে কাজ করতে যাওয়া ভারতীয় কৃষককে এলোপাথাড়ি হাসুয়ার কোপ! শুধু তাই নয়, এক ভারতীয়কে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠল বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানার নাসিরেরপাড়া সীমান্তে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পিছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি অন্য কোনও বিষয় ?
শুক্রবার চোরাকারবারী আটকাতে হোগলবেড়িয়ার আয়াডাঙা সীমান্তে গুলি চালায় বিএসএফ। বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশের দৌলতপুরের সাহাজুল নামে এক ব্যক্তি জখম হন বলে খবর। পালটা গুলি চালানোর অভিযোগ বিজিবির বিরুদ্ধে। শনিবার বেলা দশটা নাগাদ বাংলাদেশের দুষ্কৃতীরা ভারতের এক চাষিকে মারধর করে। তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। জখম ব্যক্তির নাম বিদ্বান বিশ্বাস। তিনি আয়াডাঙার বাসিন্দা। ভারতীয় চাষিরা তাঁকে উদ্ধার করে বিএসএফের অ্যাম্বুলেন্সে করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। বিদ্বানের সঙ্গে ছিলেন কাজল ঘোষ নামে আরও এক চাষি। তাঁকে দুষ্কৃতীরা অপহরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও পড়ুন:
এই দুই ভারতীয় চাষি সীমান্তের ওপারে তাঁদের চাষের জমিতে চাষের কাজ করতে গিয়েছিলেন। এই ঘটনার পর থেকে সীমান্তে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উভয় দেশের পক্ষ থেকে পরস্পরের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ করা হয়। বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি চাষি আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়। যদিও বিএসএফের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ওই ব্যক্তি পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিএসএফ তাঁকে সাবদান করলেও তিনি শুনেননি। এমনকী বিএসএফের জওয়ানদের উপর হামলাও চালিয়েছিলেন অভিযুক্ত। সেই কারণে গুলি চালাতে বাধ্য হয় বিএসএফ। এরপর দুপুরে ভারতের আয়াডাঙা ও বাংলাদেশের দৌলতপুর সীমান্তের জিরো পয়েন্টে বিএসএফ বিজিবির সঙ্গে ফ্ল্যাগ মিটিং করতে চাইলে বিজিবি রাজি হয়নি বলে খবর।
অপহৃত কাজল ঘোষ বাংলাদেশের কোথায় কী অবস্থায় আছেন তা সন্ধ্যা পর্যন্ত জানা যায়নি। করিমপুরের বিধায়ক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ জানান, কাজল ঘোষকে ফিরিয়ে আনার জন্য সমস্ত রকম চেষ্টা চলছে। রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকারের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব শীঘ্রই কাজল ঘোষকে ফিরিয়ে আনা যাবে বলে মনে করেন বিধায়ক। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আহত চাষি বিদ্বান বিশ্বাসকে কৃষ্ণনগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাতে তাঁর অস্ত্রোপচার হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
