দু’দশক আগে ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর প্রথম মরশুমের বিজয়ী অভিজিৎ সাওয়ান্ত। রিয়ালিটি শোয়ে জেতার পর লাইমলাইটে থাকলেও বর্তমানে অনেকটাই প্রচারের অন্তরালে তিনি। এবার জীবনের চড়াই-উতরাই নিয়ে মুখ খুলে ফের চর্চার শিরোনামে অভিজিৎ।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে স্মৃতির সরণিতে হেঁটে গায়ক ফিরে গিয়েছেন শুরুর দিনগুলিতে। অভিজিৎ জানান, “যখনই কোনও ছোট মঞ্চে গান গাওয়ার সুযোগ পেতাম, সেই দিনটাই আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন হয়ে উঠত। ছোটখাটো অনুষ্ঠান বা প্যান্ডেলে গান গাওয়ার স্মৃতি আজও আমার মনে আছে। কখনও হয়তো ১০০ টাকা পেতাম, আবার কখনও কেউ হয়তো পরম স্নেহে আমার পকেটে ৫০ টাকা গুঁজে দিয়ে বলতেন- ‘নে বাবা, আজ কিছু খেয়ে নিস।’”
আরও পড়ুন:
‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এ সুযোগ পাওয়ার অনেক আগে থেকেই গানকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন অভিজিৎ। তবে সেসময়ে আর্থিক অনটন ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। তাই পরিবারের তরফেও তেমন সাহায্য পেতেন না।
‘ইন্ডিয়ান আইডল’ জিতে পুরস্কার হিসেবে পেয়েছিলেন ১ কোটি টাকা। কিন্তু এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না অভিজিৎ সাওয়ান্তের। একসময়ে ছোটোখাট অনুষ্ঠানে গান গেয়ে যৎসামান্য টাকা পাওয়াটাই তাঁর কাছে ছিল পরম প্রাপ্তি। এমনকী মাত্র ১৫ বছর বয়সে মুম্বইয়ের চেম্বুরে পকেটে মাত্র ১ টাকা নিয়ে আটকে পড়েছিলেন। ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এ সুযোগ পাওয়ার অনেক আগে থেকেই গানকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন অভিজিৎ। তবে সেসময়ে আর্থিক অনটন ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। তাই পরিবারের তরফেও তেমন সাহায্য পেতেন না। অগত্যা নিজের খরচ নিজেকেই জোগাতে হত তাঁকে।
“আমরা ঈশ্বরকে কখনও দেখিনি, কিন্তু দর্শকদের তো দেখতে পাই। আর আমার কাছে তাঁরা ঈশ্বরের মতোই।…”
অভিজিৎ সাওয়ান্ত বলছেন, “জীবনে অনেক উত্থান-পতন এসেছে। এমন অনেক দিন গিয়েছে যেগুলো ভালো করে কাটাতে পারিনি। বর্তমানে যখনই কোনও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাই বা সমস্য়ায় পড়ি, তখন আমি সেই মানুষগুলোর কথা ভাবি, যারা সেই দুঃসময়ে আমার পাশে থেকেছেন। ভালোবাসা দিয়ে গিয়েছেন। ‘তুমি ভালো কিছু করতে পারবে’— একথা বলেও আমাকে আশা জোগাতেন তাঁরা। যে কথাগুলো আজও আমার কাছে বেদবাক্যসম।” এখানেই অবশ্য থামেননি তিনি, দর্শকদের ঈশ্বরের সঙ্গে তুলনা করে গায়কের মন্তব্য, “আমরা ঈশ্বরকে কখনও দেখিনি, কিন্তু দর্শকদের তো দেখতে পাই। আর আমার কাছে তাঁরা ঈশ্বরের মতোই। আর ঠিক একারণেই আমি কাজ করে যাচ্ছি— নিজের জন্য প্রতিনিয়ত কঠোর পরিশ্রম করে চলেছি।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
