‘পুলিশকাকুদের’ ৬ মাসের লড়াই! মুম্বইয়ে হারানো ৪ বছরের আরোহীর খোঁজ মিলল বারাণসীতে

‘পুলিশকাকুদের’ ৬ মাসের লড়াই! মুম্বইয়ে হারানো ৪ বছরের আরোহীর খোঁজ মিলল বারাণসীতে

সিনেমা/বিনোদন/থিয়েটার
Spread the love


সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এই গল্প অবলম্বনে সিনেমা বানালে হিট! ক্ষণিকের ভুলে মায়ের কোল থেকে হারিয়ে গিয়েছিল চার বছরের আরোহী, একটানা ছয় মাস পুলিশ-প্রশাসনের অক্লান্ত পরিশ্রমে বেদনায় কাতর মায়ের কাছে ফিরল ছোট্ট মেয়ে। তাও আবার চলতি মাসে শিশু দিবসের দিনে মায়ের সঙ্গে দেখা হল আরোহীর।

ঘটনার সূত্রপাত গত মে মাসের ২০ তারিখ। সোলাপুর থেকে মুম্বই এসেছিলেন আরোহীর বাবা-মা। সঙ্গে ছিল চার বছরের মেয়ে। আরোহীর বাবার চিকিৎসা উদ্দেশ্যে মুম্বই আগমণ পরিবারটির। ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ টার্মিনাসে মায়ের কোলে ছিল আরোহী। পরিশ্রান্ত মায়ের চোখ বুজে এসেছিল। তখনই বেপাত্তা হয় মেয়ে। চোখ খুলে দিশাহারা অবস্থা হয় মহিলার। থানায় অভিযোগ জানায় পরিবারটি।

যদিও কিছুতেই খোঁজ মিলছিল না চার বছরের মেয়ের। তাঁকে ফিরে পেতে দীর্ঘদিন থানা, স্টেশন, ট্রেন, বস্তি, অনাথ আশ্রমে হন্যে হয়ে ঘোরেন দম্পতি। তাঁরা ঘুণাক্ষরে ভাবতে পারেননি মুম্বইয়ে হারানো আরোহী পৌঁছে গিয়েছে সুদূর বারাণসীতে। গত জুন মাসে বারাণসীর একটি অনাথ আশ্রমের কর্মীরা রেললাইনের ধারে খুঁজে পান আরোহীকে। তাঁরাই ছোট্ট মেয়েটিকে আশ্রয় দেন। সে নাকি ঘুমের মধ্যে কেবল ‘আই’ (মারাঠি ভাষায় মা) বলে চিৎকার করে উঠত। এর বেশি বাড়ি-ঘর-ঠিকানা জানাতে পারেনি।

মুম্বই পুলিশ অবশ্য হাল ছাড়েনি। আরোহীর ছবি সম্বল করে তন্নতন্ন করে খুঁজে চলে তারা। খবরের কাগজে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়। সাংবাদিকদের কাছেও সাহায্যের আবেদন জানায় প্রশাসন। শেষ পর্যন্ত পরিশ্রমের ফল মেলে। ১৩ নভেম্বর বারাণসীর এক স্থানীয় রিপোর্টারের চোখে পড়ে আরোহীর ‘নিখোঁজ’ পোস্টারটি। তিনি অনাথ আশ্রমে মেয়েটিকে দেখেছিলেন। দ্রুত যোগাযোগ করেন। বাকিটা ঘরের মেয়েকে ঘরে ফেরানোর পদ্ধতি।

মুম্বই পুলিশের মাধ্যমে আরোহীর বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনাথ আশ্রম কর্তৃপক্ষ। ভিডিওকলে ছয় মাস পর মেয়েকে দেখেন মা-বাবা। সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় পেয়ে হেসে-কেঁদে আকুল হন তাঁরা। এরপর নিয়ম মেনে পুলিশের মধ্যস্থতায় গত ১৪ নভেম্বর শিশু দিবসের দিন মা-বাবার কোলে ফেরে ছোট্ট মেয়ে। ‘পুলিশকাকুদের’ও আনন্দের শেষ ছিল না। তাঁদের লড়াইয়ের জোরেই তো ঘরে ফিরল সে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *