পুরভোটের দু’মাস আগে মহানগরবাসীর জন্য বড়সড় সুখবর দিল রাজ্য সরকার। নাগরিকদের বকেয়া সম্পত্তি করের উপর সুদ ও জরিমানায় ১০০ শতাংশ মকুব করার জন্য কলকাতা পুরসভার প্রস্তাবে অনুমোদন দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার থেকেই পুরকরের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘোষণা করেছেন পুরকমিশনার তথা পুরপ্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে। জানিয়েছেন, ‘‘আগামী ৩১ মার্চ, ২০২৭ পর্যন্ত বকেয়া সম্পত্তিকর মেটাতে চাইলে তবেই জমে থাকা সুদ ও জরিমানায় ছাড়ের সুযোগ পাওয়া যাবে। অবশ্য যদি কেউ কিস্তিতে বকেয়া করের টাকা মেটাতে চান, সেই সুযোগও দেবে পুরসভা।’’ তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য, ওয়েভার স্কিম চালু হলে এবার কলকাতার বকেয়া সম্পত্তি করদাতার ৩ লাখ ৮৬ হাজার ২৮৮ জন উপকৃত হবেন।
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) ও বিধানসভা নির্বাচন এবং ভোটপরবর্তীতে নানা সামাজিক প্রকল্পে পুরকর্মীরা টানা ১০ মাস পুরকর্মীরা ব্যস্ত থাকায় সম্পত্তি-কর আদায় তলানিতে ঠেকেছে। শুধু তাই নয়, অনলাইন সার্ভার টানা তিন সপ্তাহের বেশি বিকল থাকায় পুরকর জমা দিতে এসেও একাধিকবার ফিরে গিয়েছেন বহু নাগরিক। স্বভাবতই কর্পোরেশনের কোষাগারের বেহাল দশা ফেরাতে ও আগামী ২৮ নভেম্বর প্রস্তাবিত পুরভোটের আগে বাসিন্দাদের মুখে হাসি ফেরাতে ‘ওয়েভার স্কিম’ চালুর প্রস্তাবে সায় দিয়েছে নবান্ন। পুরকমিশনার স্মিতা পাণ্ডে জানান,‘‘সমস্ত সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত মালিকানার সম্পত্তি এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা সম্পত্তিতে বকেয়া করের উপর সুদ ও জরিমানায় ১০০ শতাংশ ছাড় মিলবে। আবার যদি কোনও সম্পত্তিতে বসবাস ও ব্যবসা একইসঙ্গে চলে, সেক্ষেত্রে সুদের উপর ৮০ শতাংশ এবং জরিমানায় ৯৯ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে।’’
আরও পড়ুন:
কলকাতার সমস্ত বাণিজ্যিক ভবন ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কথা মাথায় রেখেও বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেকথা উল্লেখ করে পুরপ্রশাসক জানান,‘‘সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত সম্পত্তির ক্ষেত্রে সুদের উপর ৭০ শতাংশ ও জরিমানায় ৯৯ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে। আগামী, ছ’মাস অর্থাৎ ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বকেয়া পুরকর মেটাতে চাইলে তবেই ওয়েভার-স্কিমে এই ছাড় পাবেন আবেদনকারীরা।’’ এর আগেও সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শোভন চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিমরা মেয়র থাকাকালীন এমন ওয়েভার স্কিম চালু হয়েছে। পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে বকেয়া সম্পত্তি করের পরিমান ৬৮৫৪.২৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে মূল পুরকর ৩১৩৮.৭৬ কোটি এবং সুদের পরিমান ৩৩১৪.১৩ কোটি টাকা। আর জরিমানা বাবদ ধার্য রয়েছে ৪০০.৩৮ কোটি টাকা। ওয়েভার স্কিম চালু হলে এই সুদ ও জরিমানা বাবদ অর্থ পাবে না তবে মূল ধার্য পুরকরের অনেকটাই পুরসভার কোষাগারে আসবে বলে দাবি পুরপ্রশাসকের।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
