নাগরিকত্বের পরীক্ষা

নাগরিকত্বের পরীক্ষা

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


নির্বাচন কমিশনের তৎপরতায় বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন হয়ে গেল। এবার পালা পশ্চিমবঙ্গের। তবে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি এখনও বাকি। শীর্ষ আদালত সবুজ সংকেত দিলে অগাস্টের প্রথম সপ্তাহে বাংলায় কাজটা শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন। বিহারবাসীর অভিজ্ঞতা কিন্তু সুখের নয়। বরং মানুষ আতঙ্কিত। আগামী নভেম্বরে বিহারে বিধানসভার ভোট। তার আগে প্রায় ৫২ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ে গেল।

নির্বাচন কমিশনের যুক্তি, বাদ পড়া নামের সিংহভাগ হয় মৃত অথবা বিদেশি কিংবা পাকাপাকিভাবে স্থানান্তরিত। বিরোধী দলগুলোর বক্তব্য অবশ্য সম্পূর্ণ আলাদা। তাদের অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে প্রকৃত ভোটারদেরই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এনডিএ-র ভোট বাড়াতে দলিতদের নাম ছেঁটে ফেলা হয়েছে তালিকা থেকে।

পরিস্থিতি এমনই যে, এরপর নির্বাচনে লড়তে দ্বিধায় ভুগছে বিরোধীরা। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব এমন কথাও বলেছেন যে, ভোট বয়কটের কথাও তাঁরা ভাবতে পারেন। একই হুমকি কংগ্রেসেরও। এই নিয়ে সংসদ তোলপাড় হচ্ছে।‌ ‘ইন্ডিয়া’ জোট উঠেপড়ে লেগেছে প্রতিবাদ জানাতে। পশ্চিমবঙ্গেও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এতদিন সবাই জানত, ভোটার-আধার-র‌্যাশন কার্ড থাকলে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ নিশ্চিত।

যদিও নির্ভুল কার্ডের জন্য অধিকাংশ মানুষকে বহু কাঠখড় পোড়াতে হয়। এত কষ্ট করে অর্জিত কার্ডগুলো তাহলে মূল্যহীন হয়ে গেল কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। কারণ, সুপ্রিম কোর্ট বলা সত্ত্বেও বিহারে ভোটার তালিকা পরিমার্জনে ভোটার-আধার-র‌্যাশন কার্ড বিবেচনার মধ্যে আনেনি কমিশন। এখানেই দুশ্চিন্তা বাড়ছে বঙ্গবাসীর। কেন্দ্রীয় সরকার ও কমিশনের উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয় জাগছে।

এতদিন ব্যাংক, জীবনবিমা, স্বাস্থ্যবিমা, যে কোনও সামাজিক প্রকল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজে আধার কার্ড ছিল সবচেয়ে জরুরি নথি। সেই আধার কার্ড জমা পড়ার ফলে আমজনতার যাবতীয় তথ্য আর গোপন নেই। সব ফাঁস হয়ে গিয়েছে। এতে যে কারও যখন-তখন সাইবার প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। বাস্তবে প্রায় রোজ সংবাদপত্রে সাইবার প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খোয়ানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে।

কিন্তু কমিশনের সক্রিয়তায় সেই আধার কার্ড এখন গুরুত্বহীন।‌ নতুন যেসব নথি চাওয়া হচ্ছে, তা না থাকলে ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক হওয়ার আতঙ্ক গ্রাস করছে। স্কুলপাশ পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড কারও না থাকলে কী হবে ভেবে উদ্বিগ্ন অনেকে। প্রশ্ন উঠছে, বছরের পর বছর যাঁরা ভোট দিয়ে আসছেন, রাতারাতি তাঁদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর যুক্তি কী? সাধারণ মানুষ তাই দিশাহারা, অসহায়।‌

এনডিএ শাসন ছিল অটলবিহারী বাজপেয়ীর জমানাতেও। কিন্তু এসব ব্যাপারে তখন কোনও খারাপ অভিজ্ঞতা ছিল না। এখনও এনডিএ শাসন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমলে ভোটাধিকার নিয়ে এখন ঘোর অনিশ্চয়তা। কয়েক বছর আগে আচমকা কয়েক ঘণ্টার নোটিশে ৫০০-২০০০ টাকার নোট বাতিলের সিদ্ধান্তে মানুষ কতটা অসুবিধায় পড়েছিলেন, এটিএম-এর লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে কত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল- সেই ইতিহাস কারও অজানা নয়।

মোদি সরকার তখন আশ্বাস দিয়েছিল, আর কালো টাকা বলে কিছু থাকবে না।‌ কিন্তু কালো টাকা আজও স্বমহিমায় বিরাজমান।‌ মোদি সরকারের কোনও প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন হয়নি।‌ ভোটার তালিকা সংশোধনে আপত্তি থাকার কথা নয়। সেটা নির্বাচন কমিশনের স্বাভাবিক কাজ। কিন্তু আধার বা ভোটার কার্ডকে নাগরিকত্ব প্রমাণে বাতিল ঘোষণা নিয়েই যত আপত্তি।

ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রথম সরব হন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।‌ বোঝাই যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা হলে নির্বাচন কমিশনকে বাধার সম্মুখীন হতে হবে প্রতি পদে। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে প্রতিবাদ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন। সহজে ছেড়ে দেবে না তৃণমূল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *