তন্ত্রসাধনায় দীক্ষা দেওয়ার নাম করে বড়সড় কুকীর্তি তান্ত্রিকের! কোচবিহারের এক যুবতীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, তারাপীঠে নিয়ে গিয়ে অচৈতন্য করে বিয়ে এবং যৌনতা। পরে তান্ত্রিকের বিবাহিত জীবন এবং কুমতলব বুঝতে পেরে সম্পর্ক থেকে বেরনোর চেষ্টা করতেই ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারির অভিযোগ ওঠে। এরপর যুবতী পুলিশের দ্বারস্থ হন। তাতেই সোদপুর থেকে গ্রেপ্তার হন তন্ময় ঘোষ ওরফে তারকনাথ কাপালিক ওরফে অঘোরী তান্ত্রিক। তাকে সাতদিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আধ্যাত্মিক বিষয়ে আগ্রহ ছিল কোচবিহারের ওই তরুণীর। সেই কারণেই তন্ময় ওরফে অঘোরী তান্ত্রিকের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁকে দীক্ষা দেওয়ার কথা বলে কোচবিহার থেকে ডেকে তারাপীঠে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, সেখানে পানীয় খেতে দেওয়া হয়। তা খাওয়ার পর জ্ঞান হারান তিনি। সেই অবস্থাতেই মালাবদল করানো হয়, তাঁকে মিথ্যে বিয়ে করে ধৃত তান্ত্রিক। এরপর যুবতীর সঙ্গে যৌনতায় মেতে ওঠে সে। প্রথমদিকে অঘোরী তান্ত্রিকের কুকীর্তি ধরতে পারেননি যুবতী। তাঁরা একসঙ্গে খড়দহের স্বদেশি মোড়ের কাছে ঘর ভাড়া করে থাকতেও শুরু করেন। সেখানেই তন্ময়ের স্ত্রী ও সন্তানের কথা জানতে পারেন যুবতী। জানা যায়, সে বিবাহতি, ১১ বছরের সন্তানের বাবা।
আরও পড়ুন:
এরপরই ফাঁদে পড়েছেন বুঝতে পেরে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চান কোচবিহারের যুবতী। তাতে বিপদ বাড়ে। অভিযোগ, নিজেদের ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখায় তন্ময়। প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশের কাছে জানান তিনি। শেষ পর্যন্ত কোচবিহারে ফিরে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার রাতে সোদপুর স্টেশন থেকে তন্ময়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তন্ত্রসাধনার নামে আরও কোনও মহিলার সঙ্গে একইভাবে যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না, তাঁদের কাছ থেকে টাকা বা অন্য কোনও সুবিধা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার বারাকপুর আদালতে তোলা হলে ধৃতের সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ হয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
