ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর খণ্ডবিখণ্ড হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কোন শিবির ‘আসল’ তা নিয়ে ধন্দে কর্মীরাও। সেই সুযোগে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধাঁচে বছরভর কর্মসূচি ঘোষণা করল কংগ্রেস। আজ একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে একাধিক কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি দিন ঠিক করে ব্রিগেড সমাবেশের ডাক দেন তিনি। শুভঙ্কর জানান, সেই কর্মসূচিতে আসবেন খোদ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
ব্রিগেডের পাশাপাশি সারাবছর আরও বেশ কয়েকটি কর্মসূচির কথা ঘোষণা করে শুভঙ্কর। তিনি জানান, ৮ থেকে ১৪ আগস্ট শ্যামাপ্রসাদের বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিবাদ হবে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নেতাকর্মীদের পথসভা করার ডাক দেন প্রদেশ সভাপতি। এছাড়াও ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ডাকও দেন তিনি। ৯ আগস্ট দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর ছাত্র কি গুঞ্জ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। ১৪ আগস্ট রাত ১২টায় শ্রদ্ধানন্দ পার্কে জাতীয় পতাকা উত্তোজন করা হবে। ১৫ আগস্ট প্রতি ব্লকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি করবে কংগ্রেস। ২৮ আগস্ট মহাজাতি সদনে ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস পালিত হবে।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য নাম না করে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বিরুদ্ধে মন্তব্য করার প্রতিবাদ জানাবে কংগ্রেস। তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদে ২৩ জানুয়ারি প্রতি ব্লকে ধিক্কার প্রতিবাদ কর্মসূচি করবে দলের নেতা কর্মীরা। ৩০ জানুয়ারি বেলেঘাটায় গান্ধী ভবনে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন কর্মসূচি করবে কংগ্রেস নেতৃত্ব।
উল্লেখ্য়, একুশে জুলাই নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে দড়ি টানাটানির মধ্যে মঙ্গলবার শহিদ মিনারের সামনে শহিদদের স্মরণ করে কংগ্রেসও। তৃণমূলের অন্দরে দ্বন্দ্বে অক্সিজেন পায় দলীয় নেতৃত্ব। তাই সেই সুযোগে কর্মীদের চাঙ্গা করতে বছরভর একাধিক কর্মসূচির রূপরেখা প্রস্তুত করে দিলেন শুভঙ্কর। তবে এদিন একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচিতে কংগ্রেসের অন্দরের ফাটলও ছিল চোখে পড়ার মতো। অধীররঞ্জন চৌধুরী মঞ্চে উঠতেই ‘শুভঙ্কর সরকার (প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি) জিন্দাবাদ’ স্লোগান তোলেন কর্মীরা। এই ঘটনায় কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েন অধীর ও দলের নেতাকর্মীরা। যদিও অধীর বিষয়টিকে সুন্দরভাবেই ম্যানেজ করেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
