সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ক্রিকেট মাঠে কতরকম ভাবে রূপকথা লেখা হয়। স্কুলশিক্ষকতা মাত্র ৬ মাসের জন্য ছুটি নিয়ে বাইশ গজে নেমেছিলেন। সেখান থেকে আর ফিরে আসার এখনও পর্যন্ত দরকার হয়নি। রনজিতে সেঞ্চুরি করে রূপকথা লিখলেন নাগাল্যান্ডের ব্যাটার ইমলিওয়াতি লেমতুর। কোনও কোচ ছিল না। ২০১১-এ ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের অনুপ্রেরণাকে শক্তি করে বাইশ গজে নেমে পড়েছিলেন। তামিলনাড়ুর শক্তিশালী বোলিং বিভাগের বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট প্রথম সেঞ্চুরি করে নিজের স্বপ্নকে সত্যি করে তুললেন লেমতুর।
বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে বিরাট লক্ষ্য রাখে তামিলনাড়ুর। ৫১২ রান তাড়া করতে নেমে ৩১ রানে ৪ উইকেট হারায় নাগাল্যান্ড। সামনে ফলো-অনের লজ্জার আতঙ্ক। সেখান থেকে জুটি বাঁধেন দেগা নিশ্চল ও লেমতুর। এর মধ্যে দেগা ১৭৫ করেন। ম্যাচের বয়স তখন ১১৩ ওভার। ৯৯ রানে ব্যাট করছেন লেমতুর। ওভারের চতুর্থ বলে একরান নিতেই উল্লাসে ফেটে পড়ল নাগাল্যান্ড ড্রেসিংরুম। লেমতুর সেঞ্চুরি করলেও এ যেন নাগাল্যান্ড দলের সবার সাফল্য। কেন? তার জন্য কিছুটা পিছনে ফিরে যাওয়া যাক।
লেমতুর ছিলেন স্কুলের শারীরশিক্ষার প্রশিক্ষক। ডিমাপুরের একটি স্কুলে পড়াতেন। স্কুল থেকে ৬ মাসের ছুটি চেয়েছিলেন। স্কুল ছুটি দিতে আপত্তি করেনি, তবে ওই ৬ মাস কোনও বেতন পাবেন না লেমতুর, এই চুক্তি হয়েছিল। তার কিছুদিন আগেই বিয়ে করেছেন। ফলে দায়িত্ব প্রচুর। স্কুল থেকে জানিয়েছিল, তাঁর জায়গা ফাঁকা থাকবে। ফিরে এলে ফের দায়িত্ব নেবেন। ৩৩ বছর বয়সি ক্রিকেটারের ইচ্ছা রয়েছে, আগামী বছর স্কুলে ফিরে যাওয়ার।
কিন্তু তার আগে যে রূপকথা লিখে দিলেন, সেটা নিয়ে চর্চা কম নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কোনও কোচ ছিল না বাঁহাতি ব্যাটারের। ২০১১ সালে বিশ্বকাপে যুবরাজ সিং, সুরেশ রায়নার ব্যাটিং তাঁকে অনুপ্রাণিত করে। তারপরই পেশাদার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু। সেখান থেকে নাগাল্যান্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের খেলার পর মূল দলে জায়গা পান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১২১টি উইকেটও আছে তাঁর নামে। সেঞ্চুরির পর একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “পুরো স্বপ্নের মতো লাগছে।” না, স্বপ্ন নয়, বাস্তবেই স্বপ্নপূরণ করলেন লেমতুর।
