কাশ্মীরের পথে সিকিম! এবার আপেল চাষে ঘুরে দাঁড়াতে নয়া উদ্যোগ। বেলজিয়াম থেকে চারা এনে ওই পাহাড়ি রাজ্যের গ্যালশিং জেলার আপার খাণ্ডু গ্রামে প্রথম জৈব পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলক আপেল চাষ। আর তাতেই মিলেছে সাফল্য। খুশির মেজাকে কৃষকরা। এবার পুজোর ছুটিতে যেসব পর্যটকরা সিকিমে যাবেন, ইচ্ছে হলে তারাও ঘুরে দেখতে পারেন সুমিক ও আরিটারের আপেল বাগান।
হিমালয়ের কোলে চিন সীমান্তের ছোট্ট রাজ্য সিকিমে রয়েছে কাশ্মীরের মতো তুষারাবৃত উপত্যকা। হিমবাহ হ্রদ। পাহাড়ি ফুলের জলসা। ইয়াক, গিরিপথ। ছিল না আপেল বাগান। যদিও একসময় উত্তর সিকিমের লাচুংয়ে আপেল চাষ বেশ জনপ্রিয় ছিল। শীতের তীব্রতা কমতে সেই চাষ বন্ধ হয়ে যায়। এবার হাতের কাছে অনেক নিরাপদ একটুকরো কাশ্মীর উপহার দিতে সিকিমে শুরু হয়েছে পুরোপুরি জৈব পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলক আপেল চাষ। স্বাদে, গুণে কাশ্মীরকে টেক্কা দিতে খন্দং-সিংতামের বিধায়ক তথা সিকিম রাজ্য সরকারের সড়ক ও সেতু দপ্তরের মন্ত্রী নর বাহাদুর দাহালের ব্যক্তিগত উদ্যোগে আপেলের চারা উড়িয়ে আনা হয়েছে বেলজিয়াম থেকে। সুমিক ও আরিটার এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে গড়ে তোলা আপেল বাগানে ফলন শুরু হয়েছে। পুজোর ছুটিতে সিকিমে ভ্রমণে গেলে পর্যটকরা পেয়ে যাবেন সেই মন কাড়া ছবির সন্ধান।
আরও পড়ুন:

জানা গিয়েছে, সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের নেতৃত্বে ‘স্বর্ণালী সিকিম, সমৃদ্ধ সিকিম ও সক্ষম সিকিম’ গড়ে তোলার অভিযান চলছে। সেই প্রকল্পের অধীনে বেলজিয়াম থেকে আনা আপেলের চারাগুলি ৪ এপ্রিল সুমিক ও আরিতারের চাষিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। সড়ক ও সেতু দপ্তরের মন্ত্রীর স্ত্রী সাবিনা রাই দাহাল চারাগুলো চাষিদের হাতে তুলে দেন। শুরু হয় বিকল্প রোজগারের পথের সন্ধান। মাত্র পাচ মাসের মধ্যে অনুকূল আবহাওয়ায় গাছগুলো ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। সেগুলোতে ফল ধরতে শুরু করে। কৃতজ্ঞতা জানাতে এলাকা চাষিরা উৎপাদিত আপেল সম্প্রতি মন্ত্রীকে উপহার দেন। চাষিরা জানান, তাদের বাগানে এইচআরএমএন-৯৯ আন্না এবং ডরসেট গোল্ডেন জাতের চারা রোপণ করা হয়েছে।
সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে গাছে আপেল ধরতে শুরু করে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের কারিগরী সহায়তা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, জৈব কিটনাশক এবং সেচসামগ্রী দেওয়া হয়। সড়ক ও সেতু দপ্তরের মন্ত্রী জানান, ওই এলাকায় আরও বেশি মানুষকে আপেল চাষে উৎসাহিত করবেন। এটা চাষিদের স্বাবলম্বী করে তুলতে সাহায্য করবে। আগামী বছরগুলোতে উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে এই উদ্যোগ কর্মসংস্থান, স্থানীয় পর্যায়ে প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন এবং কৃষি-ভিত্তিক অন্য ব্যবসার পথ খুলে দেবে।
একসময় উত্তর সিকিমের লাচেন ও লাচুং-এ ব্যাপক আপেল চাষ হত। কিন্তু শীতের তীব্রতা কমে যাওয়ায় সেখানে আপেলের ফলন ব্যাপকভাবে মার খায়। ওই কারণে লাচেন ও লাচুং-এর বহু চাষি বাধ্য হয়ে আপেল চাষ ছেড়ে আলু, বাঁধাকপি ও গ্রিনহাউসে টমেটো অথবা লঙ্কা চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। অনেকে চাষবাস কমিয়ে হোমস্টে বা পর্যটন ব্যবসায় নেমেছেন। এরপর থেকেই শুরু হয় বিকল্প পদ্ধতিতে আপেল চাষের চিন্তা ভাবনা। সেটা সফল হয় গ্যালশিং জেলার আপার খাণ্ডু গ্রামে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
