সতীর দেহ যখন সুদর্শন চক্রে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন দেবীর কণ্ঠনালী এসে পড়েছিল বাংলার এই সতীপীঠে, আর তাই এ প্রাচীন শক্তিক্ষেত্রের নামই হয়ে দাঁড়িয়েছে নলহাটি। স্থানীয়রা বলেন, আজও নাকি গভীর রাতে মায়ের নূপুরের আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায় এখানে। দেবী এখানে ‘শেফালিকা’ নামে পরিচিতা। আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বীরভূমের নলহাটেশ্বরী মন্দির।
মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নাটোরের রানি ভবানীর নাম। কথিত রয়েছে, তিনিই প্রথম শুক্লপক্ষে মাকে ভোগ নিবেদন করে শুরু করেছিলেন পুজোর বিশেষ রীতি। আজও সেই পরম্পরা মেনে চলেন নলহাটির বাসিন্দারা।
আরও পড়ুন:
বিশ্বাস করা হয়, রানি ভবানী মন্দির প্রতিষ্ঠার স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। মন্দিরের পুজোর জন্য যে পুরোহিতকে তিনি নিযুক্ত করেছিলেন, আজও তাঁদেরই বংশধরেরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মায়ের পুজোর দায়িত্ব সামলান। দেবী সতীর কণ্ঠনালীটি নাকি আজও শিলার আকারে সংরক্ষিত রয়েছে। মন্দিরের গর্ভগৃহে মায়ের মূর্তির সামনেই দেখতে পাওয়া যায় সেটি।
দুর্গাপুজোর চার দিন দেবীকে দুর্গারূপে পুজো করা হয়। মা সেজে ওঠেন ডাকের সাজে। পাথরের দেবীর মুখমণ্ডল সিঁদুরে রাঙানো হয়। মাথার ওপর থাকে রুপোর ছাতা। দেবী কালীর মতোই বিশাল তার জিহ্বা।
এই মন্দিরে দেবীর নিত্যপুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ভোগ নিবেদন। প্রাচীন রীতি ও পরম্পরা মেনে সকাল থেকে সন্ধ্যা, নির্দিষ্ট সময় ও বিধি মেনে চলে এই সেবা। দিনের শুরুতে মায়ের চরণে নিবেদন করা হয় ফল, মিষ্টি ও চালের নৈবেদ্য। দুপুরের ভোগে থাকে ভাত, ডাল, মরসুমি সবজি ও পায়েস। থাকে খিচুড়ি ও পাঁচ রকমের ভাজা। আবার সন্ধ্যার আরতিতে ভোগের থালায় সাজানো থাকে লুচি, সুজি ও বাতাসা।
এই নিবেদনের অন্যতম প্রধান উপকরণ চাল, তাই চালের গুণমান যেন বজায় থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতেই হয়। এমন পবিত্র আয়োজনের উপযুক্ত চালের কথা উঠলেই মনে পড়ে যায় লালবাবা রাইসের নাম (Lalbaba Rice)। বাংলার মাটিতে ফলিত ধানের শুদ্ধতা ও স্বাদকে অক্ষত রেখে, বিগত ৬০ বছর ধরে ঐতিহ্য ও নির্ভরতার এক বিশ্বস্ত ঠিকানা হয়ে উঠেছে লালবাবা রাইস।
মায়ের চরণে নিবেদিত প্রতিটি অন্নকণায় প্রয়োজন শুদ্ধতার ছোঁয়া। লালবাবা রাইস ছাড়া এমন ভরসা আর কে-ই বা দিতে পারে? তাই তো বাংলার জনপ্রিয়তম চাল উৎপাদক ব্র্যান্ডের সঙ্গে জুড়ে যায় ভক্তি। জুড়ে যায় বীরভূমের নলহাটেশ্বরী মন্দির।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
