ক্ষমতা পেয়েও ভোলেননি শিকড়, মেলায় বসে পুতুল বিক্রি বিজেপি বিধায়কের!

রাজ্য/STATE
Spread the love


পদ আর পরিচয়, মানুষের জীবন অনেকটাই বদলে দেয়। বদলে যায় চারপাশ, বদলে যায় দায়িত্বও। কিন্তু শৈশবের কিছু স্মৃতি কখনও পুরনো হয় না। বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই স্মৃতিগুলিই আরও বেশি করে টেনে নিয়ে যায় ফেলে আসা দিনগুলির কাছে। বীরভূমের ডেউচা রঘুনাথপুরের মেলায় উপস্থিত সাঁইথিয়ার বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহার ফিরে আসার গল্পটা ঠিক তেমনই। আজ তিনি জনপ্রতিনিধি। ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনে প্রতিদিনই নানা কাজ, মানুষের সমস্যা, সভা-সমিতি নিয়ে ছুটে চলতে হয়। অথচ এই ব্যস্ততার মাঝেও শৈশবের সেই মেলার টান ভুলতে পারেননি তিনি। কারণ এই মেলা তাঁর কাছে শুধু পুজো কিংবা আনন্দের জায়গা নয়, বাবার হাত ধরে বড় হয়ে ওঠার এক জীবন্ত স্মৃতি।

স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত। তাঁদের কথায়, সাধারণত বড় রাজনৈতিক পরিচয়ে থাকা মানুষদের জীবনে এমন পুরনো স্মৃতির জায়গা অনেক সময় হারিয়ে যায়। কিন্তু কৃষ্ণকান্ত সাহা দেখিয়ে দিলেন, পরিচয় যতই বদলাক, শিকড়কে ভুলে গেলে মানুষ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

আরও পড়ুন:

প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী মনসা পুজোকে ঘিরে প্রতি বছর ডেউচা রঘুনাথপুরে বসে মেলা। ছোটবেলায় এই মেলাতেই বাবা ও দাদা-ভাইদের সঙ্গে পুতুলের দোকানে বসতেন কৃষ্ণকান্ত। নানা ধরনের পুতুল সাজিয়ে বসে থাকতেন ক্রেতার অপেক্ষায়। মেলার ভিড়, শিশুদের উচ্ছ্বাস, পুতুলের রং আর দোকানের ব্যস্ততার মধ্যেই কেটে যেত তাঁর ছোটবেলার দিনগুলি। তারপর সময় নিজের নিয়মে এগিয়েছে। সেই ছোট্ট ছেলেটি আজ বিধায়ক। জীবনের পরিচয় বদলেছে, দায়িত্ব বেড়েছে। কিন্তু বদলায়নি মেলার প্রতি টান, বদলায়নি বাবার সঙ্গে কাটানো সেই দিনগুলির আবেগ।

কৃষ্ণকান্ত সাহার কথায়, “এই মেলার সঙ্গে আমার ছোটবেলার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। বাবার সঙ্গে এখানে পুতুলের দোকানে বসতাম। আজ এত বছর পর সেই একই মেলায় আবার পুতুলের দোকানে বসতে পেরে মনে হচ্ছে, যেন শৈশবের সেই দিনগুলিতে ফিরে গিয়েছি। পদ-পদবি জীবনে অনেক কিছু বদলে দেয়, কিন্তু শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক কখনও বদলায় না।” এবারও মেলা বসতেই পুরনো স্মৃতির দরজা যেন খুলে গেল। শৈশবের সেই পুতুলের দোকানকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিলেন কৃষ্ণকান্ত। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দোকানে বসলেন তিনি। সামনে সাজানো নানা রঙের পুতুল, চারপাশে মেলার কোলাহল—সবকিছুর মধ্যেও যেন ফিরে এল বহু বছর আগের সেই দিন। তারই মধ্যে চলল বিকিকিনি। 

স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত। তাঁদের কথায়, সাধারণত বড় রাজনৈতিক পরিচয়ে থাকা মানুষদের জীবনে এমন পুরনো স্মৃতির জায়গা অনেক সময় হারিয়ে যায়। কিন্তু কৃষ্ণকান্ত সাহা দেখিয়ে দিলেন, পরিচয় যতই বদলাক, শিকড়কে ভুলে গেলে মানুষ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে থাকা মানুষটিকে এদিন যেন নতুন করে চিনল মেলাপ্রাঙ্গণ। ডেউচা রঘুনাথপুরের মেলা হয়ে উঠল তাঁর কাছে শৈশবকে আবার একবার ছুঁয়ে দেখার আবেগঘন মুহূর্ত।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *