ভোটকেন্দ্রে পড়ে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় নিহত পূর্ণচন্দ্র দোলুইয়ের ছেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী জওয়ানের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন। বৃহস্পতিবার পূর্ণচন্দ্রের ছেলে তরণী দলুই পেঁড়ো থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন। উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজে তাঁর মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেই জানিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে হাওড়ার জেলাশাসকের কাছে ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চেয়ে পাঠানো হয়েছে।
এই বিষয়ে আরও খবর
গত বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটের দিনে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট ছিল। কুরিট এলাকার বাসিন্দা পূর্ণচন্দ্র দোলুই ভোট দিতে গিয়েছিলেন বলরামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে। তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাঁর ছেলে তরণী দোলুইয়ের সঙ্গে তিনি গিয়েছিলেন। তরণী দোলুইয়ের অভিযোগ, তিনি বাবার সঙ্গে যাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাছে অনুরোধ করেন। কিন্তু রাজি হয়নি। পরে বাবা একাই ভোট দিতে যান। আসার সময় তাঁকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান ধাক্কা দেয়। তারপর তিনি পড়ে যান। তরণী কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত সেখানে যান। এবং বাবাকে উদ্ধার করে আমতা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে জানান।। তরণীর আরও অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান তাঁদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি।
এদিন তরণী বলেন, “বাবা অসুস্থ থাকায় আস্তে আস্তে আসছিলেন বুথ থেকে। একজন জওয়ান তাঁকে ধাক্কা দেন। আমি যদি সাথে থাকতাম অন্তত বাবাকে ভোট দেওয়ার পরে দ্রুত তাঁকে বের করে নিয়ে আসতে পারতাম। তাহলে তাঁকে আর জওয়ানের ধাক্কা খেত না। আর পড়ে যেতে হত না। আমি চাই প্রশাসন ওই জওয়ানকে উপযুক্ত শাস্তি দিক।” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশন এখন বলছে বাবা অসুস্থ ছিলেন। তাহলে যদি জওয়ানরা ও নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা এটা বুঝতে পেরেছিলেন তাহলে অসুস্থ ব্যক্তিকে সাহায্যের জন্য কেন আমাকে তাঁর সঙ্গে যাওয়ার অনুমতি দিল না? কেন তাঁরা একটু মানবিক হলেন না? কেন তাঁরা অসুস্থ ব্যক্তিকে একা যেতে বাধ্য করলেন?” এদিকে, এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে তৃণমূল। বুধবার X হ্যান্ডেলে সরব হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
