কলসির কারসাজিতে উড়ছে কোটি কোটি টাকা! কেমন হল বিজয় ভার্মার ‘মটকা কিং’? পড়ুন রিভিউ

কলসির কারসাজিতে উড়ছে কোটি কোটি টাকা! কেমন হল বিজয় ভার্মার ‘মটকা কিং’? পড়ুন রিভিউ

ইন্ডিয়া খবর/INDIA
Spread the love


শেয়ার কেলেঙ্কারি, ট্যাক্স ফাঁকি, স্ট্যাম্প পেপার স্ক্যাম, চিট ফান্ড দুর্নীতি, ভারতে ঘটে যাওয়া কুখ্যাত আর্থিক প্রতারণার বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে বিগত কয়েক বছরে একাধিক ওয়েব সিরিজ দর্শকদের মনোরঞ্জন করেছে। অ‌ামাজন প্রাইমের সাম্প্রতিক সিরিজ ‘মটকা কিং’ এই তালিকায় নতুন সংযোজন। নাগরাজ মঞ্জুলে পরিচালিত এই সিরিজে নামভূমিকায় রয়েছেন বিজয় ভার্মা। ছয়ের দশকের জুয়ার রাজা ব্রিজ ভাট্টির চরিত্রটি আসল মটকা কিং রতন খাত্রীর জীবন থেকে অনুপ্রাণিত।

ব্রিজ ভাট্টি নায়ক হলেও তার জীবনের সব কিছু একমাত্রিকভাবে দারুণ নায়কোচিত নয়। চিরকাল সৎ এবং নির্লোভ থেকে যাওয়া যদি তার অন্যতম বড় গুণ হয় তবে অন্যদিকে সে নিজের লাগাতার সাফল্যে ক্রমশ অহংকারী হয়ে উঠেছে। ভাবতে শুরু করেছে এই সাফল্যে আর কারও কোনও ভূমিকা নেই। অর্থের প্রাচুর্য আর ক্ষমতার গদিতে বসে নিজের পরিবার থেকে একটু একটু করে দূরে সরে গিয়েছে সে। মূল চরিত্রের এই ধূসর চরিত্রায়ণ কাহিনির অন্যতম জোরের জায়গা।

আরও পড়ুন:

‘মটকা কিং’ সিরিজে বিজয় ভার্মা। ছবি- ইনস্টাগ্রাম

ছয়ের দশকের শেষ দিক, ভারতের অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থা থেকে ভারসাম্য ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে শিল্পনগরী বম্বেতে কাপড়ের মিলের শ্রমিকদের অসন্তোষ চরমে। সেই সময়ে লালজি ভাইয়ের অধীনে বেআইনিভাবে তাসের জুয়ার অন্যতম সঞ্চালক ছিল ব্রিজ ভাট্টি। তার পর একসময় নিজের ‘মটকা’ বা কলসির ভেতর জুয়ার নতুন ধাঁচ শুরু করে ক্রমশ স্বাবলম্বী হতে শুরু করে সে। তবে জুয়ার ব্যবসা হলেও নিজের সততার জোরে খুব তাড়াতাড়ি শ্রমিকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায় ব্রিজের এই খেলা। অভিনবত্বের কারণে মটকা দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলতে থাকে শহর থেকে শহরে, রাজ্য থেকে রাজ্যে। অন্যদিকে ব্রিজের চারপাশের পৃথিবী ক্রমশ বদলাতে থাকে। সততার মূল্য দিতে গিয়ে তৈরি হয় ছোট বড় নানান শত্রু। সাম্প্রতিক অতীতে আর্থিক কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত যে সব সিরিজ বিভিন্ন মাধ্যমে মুক্তি পেয়েছে সেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মূল চরিত্রকে মহিমান্বিত করে দেখানোর একটা প্রবণতা দেখা গিয়েছে। বাস্তবে তাদের চরিত্র যতই কালিমালিপ্ত হোক, সিরিজের কাহিনি এগোতে থাকে তাদের নিজের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। কাজেই সেখানে ভুল বলে কিছু থাকে না। চালাকিটাই সেখানে বাহাদুরির পর্যায়ে পড়ে। সেই চেনা ধাঁচ থেকে সরে এসে এই সিরিজ অন্য ধরনের এক ন্যারেটিভ উপহার দেয়। যেখানে ব্রিজ ভাট্টি নায়ক হলেও তার জীবনের সব কিছু একমাত্রিকভাবে দারুণ নায়কোচিত নয়। চিরকাল সৎ এবং নির্লোভ থেকে যাওয়া যদি তার অন্যতম বড় গুণ হয় তবে অন্যদিকে সে নিজের লাগাতার সাফল্যে ক্রমশ অহংকারী হয়ে উঠেছে। ভাবতে শুরু করেছে এই সাফল্যে আর কারও কোনও ভূমিকা নেই। অর্থের প্রাচুর্য আর ক্ষমতার গদিতে বসে নিজের পরিবার থেকে একটু একটু করে দূরে সরে গিয়েছে সে। মূল চরিত্রের এই ধূসর চরিত্রায়ণ কাহিনির অন্যতম জোরের জায়গা।

ব্রিজ চরিত্রে বিজয় ভার্মা এক কথায় অসামান্য। ছবি- ইনস্টাগ্রাম

প্রায় ৫০ মিনিট করে দীর্ঘ আটটি এপিসোড কিছু জায়গায় সিরিজকে ক্লান্তিকর করে তুলেছে। গল্পে খুব চমকদার মোড় না থাকায় মাঝের কিছু পর্ব একঘেয়ে লাগতে পারে। সিরিজের কাহিনি, আবহ, চিত্রগ্রহণ এবং সংগীত দর্শককে হতাশ করবে না। ব্রিজ চরিত্রে বিজয় ভার্মা এক কথায় অসামান্য। ভার্সেটাইল চেহারার দরুন যে কোনও চরিত্রে অদ্ভুতভাবে মানিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। বরখার চরিত্রে সাই তমহনকর এবং গুলরুখের চরিত্রে কৃতিকা কামরা, দুজনেই প্রশংসার দাবিদার। এ ছাড়াও দগড়ুর ভূমিকায় সিদ্ধার্থ যাদব, লক্ষ্মণের ভূমিকায় ভূপেন্দ্র যাদাওয়াত, টিপি ডি’সুজার ভূমিকায় গিরিশ কুলকার্নি প্রত্যেকেই অনবদ্য। বহুদিন বাদে গুলশন গ্রোভারকে স্বমহিমায় দেখে দর্শকের ভালো লাগবে। সুলভা চরিত্রে কৌতুকশিল্পী জ্যামি লিভারের অভিনয় মন ছুঁয়ে যায়।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *