উত্তরের সাহিত্যিক

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


  • অশোককুমার গঙ্গোপাধ্যায়

সমরেশ মজুমদারের ‘সত্যসন্ধানী অর্জুন’-এর কাহিনী পড়েননি, এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া খুবই দুষ্কর। যাঁরা অর্জুন পড়েছেন, তাঁরা অতি অবশ্যই ‘জগুদা’র কথাও জানেন। কিন্তু কে এই জগুদা? তিনি কি কাল্পনিক চরিত্র? নাকি বাস্তব? তিনি ভীষণরকম ভাবেই বাস্তব। আসল নাম অশোককুমার গঙ্গোপাধ্যায়। যিনি শুধু সমরেশ মজুমদারের অন্তরঙ্গ বন্ধুই ছিলেন না, তিনি উত্তরবঙ্গের সাহিত্য জগতের এক অতি পরিচিত নামও। যিনি গল্প শোনানোর জন্য বেছে নেন, আমাদেরই চেনা পরিবেশ।

অশোককুমার গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৩৮ সালের ৫ জুলাই। ছাত্রজীবন থেকে লেখালেখি করলেও, ১৯৬৮ সালের ৪ অক্টোবর লক্ষ্মীপুজোর রাতে জলপাইগুড়ি শহরে যে ভয়াবহ বন্যাটি হয়, তাতে অসংখ্য সাধারণ মানুষের মতো ক্ষতিগ্রস্ত হন তিনিও। তাঁর যাবতীয় প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়। সেই ঘটনার অভিঘাতে অশোকবাবু সাহিত্য জগৎ থেকেই সরে যান। এ একপ্রকার প্রকৃতির ওপর অভিমানও বলা চলে। কিন্তু যাঁর শরীরে একবার ঢুকেছে সাহিত্যের ‘সৃজনবিষ’, তাঁর কি আর রেহাই আছে? স্ত্রী ও মেয়ের লাগাতার তাগাদাতেই, তিনি দীর্ঘ ২৮ বছর পর ফের লেখালেখি শুরু করেন, এবং খুবই অল্প সময়কালের মধ্যে অসংখ্য উল্লেখযোগ্য গল্পের স্রষ্টা হিসেবে নিজের আসন পাকা করে নেন সাহিত্যমহলে। এছাড়া বন্ধুবরের প্রশ্রয় তো ছিলই। অশোকবাবুর ছোটগল্পে, উপন্যাসে উঠে আসে মানুষেরই কথা বিবিধ উচ্চারণে। কখনও তিনি লেখেন তিস্তাব্রিজ হয়ে যাওয়ায় কাজ হারানো মাঝিদের জীবনকাহিনী, কখনও ছোটগল্পের মধ্যে দিয়ে তুলে আনেন জলপাইগুড়ি শহর, তার প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষের সঙ্গে মানুষেরই সম্পর্কের নানান শেডস। জীবনবেদ।

মানুষটি শুধু সাহিত্যসেবাতেই নিয়োজিত ছিলেন, এমনটা বললে সম্পূর্ণ বলা হবে না। তিনি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক সংস্থা, নাট্যজগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। আজ বয়সের কারণে তিনি সেভাবে নানান বিষয়ে জড়িত থাকতে না পারলেও, জলপাইগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গের তরুণ গল্পকার-ঔপন্যাসিকদের যেভাবে লিখতে উৎসাহিত করে চলেছেন তিনি, যেভাবে আগলে রেখেছেন নতুন লেখক-লেখিকাদের, সেই অন্তরঙ্গতা, বস্তুত তাঁর চরিত্রগতই। এ অন্তরঙ্গতার স্বাদই খুঁজে পাওয়া যায় লেখকের ‘পুনরুত্থান’, ‘শেষ স্টেশনের সন্ধ্যায়’, ‘জীবনের গল্প’, ‘ভোরের আকাশ’, ‘অভিশংসন ও অন্যান্য’, ‘গল্পদাদুর ঝোলা’ প্রভৃতি বইয়ে।

The publish উত্তরের সাহিত্যিক appeared first on Uttarbanga Sambad.



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *