ভাগের জীবনানন্দ
শর্মিষ্ঠা ঘোষ
কল্লোলিত বোহেমিয়ানা সবেধন
না আছে উঠোন না আছে বনজ্যোৎস্না
ভৈরবীর টিকার আগুন ধক ধক মোহ তাপ
ঈর্ষা পাপ যৎসামান্য সম্বল
অভ্যর্থনা কমিটি গেছে শীত আনতে
হিম জমে বরফ কান্নার
প্রান্তরের বন্য জাপটে ধরে গন্ধ
পুরন্দর ভাটের কথাদের
প্রতিষ্ঠান থেকে ছিটকে বেরোন
জীবনানন্দের একটি টুকরো
প্রোফাইলে টাঙাই বিজ্ঞাপন বাসনায়
অতঃপর ক্লেশদায়ক কান্নাকাটি
ভাগে কম পড়ছে ভয়ে।
আর্তনাদ
পুনম বোস
শুনসান রাত –
পায়ে পায়ে হেঁটে গেছে বৃষ্টি গ্রামের ভিতর…
লোলুপ চোখ চকচকে টাকার মতো রেকি করে গেছে কাকভোরে
বেড়াল থাবায় এগিয়ে আসে মুহূর্ত —
উল্লাসের বাজি ফাটতেই নেমে আসে সন্ধ্যা
নির্জন নক্ষত্র আলোয় পোষ্যদের ঘনঘন আর্তনাদ!
ঘরের দাওয়ায় জমে থাকা জলে কেঁপে কেঁপে ওঠে নিশ্বাস…
বীভৎস গর্জনে বিচূর্ণ কাচ, শরীর ভেদ করে গেছে বুলেট —–
রক্তমাখা শব্দগুলো বিলাপ করতে করতে
ঢলে পড়ে অন্ধকারের অন্তর্ঘাতে!
নির্জন রাত হয়তো ফিরিয়ে দেবে একদিন প্রদাহের ইতিহাস।।
নিশিকাব্য
অনীশ দাস
চারিদিকে এক শূন্যতা আর নৈঃশব্দ্যের বাসা,
গভীর আঁধারে নিমগ্ন এক নীরব অমানিশা।
মেঘেদের ঘরেও নেই জেগে কেউ, আছে শুধু তারাগুলি,
মিটমিট করে জবাব তাদের, কোন সে অজানা বুলি!
বুঝলাম আমি নই একাকী, নিশাচর আরও আছে,
যামিনীযাপন কবিভাব মোর, হৃদয়ের বহু কাছে।
দিনের আলোয় নেই তার দেখা, ঠিক তারাদের মতো,
এ দেহ তখন কত যে দিশার, কত কর্মে মুখরিত।
নিঝুম নিশীথে এই ক্ষণেতে তাই মজেছি কাব্যজালে,
অতন্দ্র তখন মোর লেখনীখানি, সব নবীন সৃজনকালে।।
অপারগ
বিশ্বজিৎ মজুমদার
ঢেউগুলো সব ভুলে গেছে
বাজি ধরতে তাই
নিস্তরঙ্গ সমুদ্র,
অভাবী মানুষের মতো
দিনরাত ভাসাতে পারে না।
অক্ষরগুলো সব এলোমেলো
বিচ্ছিন্ন মানুষের মতো,
শব্দের বসতি গড়তে পারে না।
চোখগুলো সব কোটরাগত
ক্ষুব্ধ মানুষের মতো,
তবে কিছুই জানাতে পারে না।
গাছগুলো সব শুকনো পাতা
বিবর্ণ মানুষের মতো,
একরাশ অভিমান নিয়েও
কবি হতে পারে না।
The publish কবিতা appeared first on Uttarbanga Sambad.
