উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর আট দিন অতিক্রান্ত। মঙ্গলবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee) ও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিলেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। ৩২ জন শ্রমিকের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার এই নারকীয় ঘটনার জন্য সরাসরি রাজ্য সরকারের ‘মদত’ ও ‘নিষ্ঠুরতা’কে দায়ী করেছেন তিনি।
এদিন নাজিরাবাদে (Nazirabad Fireplace Case) দাঁড়িয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, ‘কলকাতার বুকে এত বড় ঘটনা ঘটল, অথচ এর দায় তৃণমূলের নয়? শাসকদলের পূর্ণ মদত ছাড়া জলাভূমির ওপর এমন অনিয়ম করে কারখানা গড়ে ওঠা অসম্ভব।’ তাঁর প্রশ্ন, কেন কারখানায় কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না? কেন প্রশাসন এখনও জানে না কারখানার মালিক কে বা কতজন শ্রমিক সেখানে কাজ করতেন? তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল নেতাদের প্রশ্রয়েই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এমন মরণফাঁদ তৈরি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে অধীর বলেন, ‘কলকাতা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে এতগুলো মানুষ মারা গেলেন, অথচ মুখ্যমন্ত্রী একবারের জন্যও এখানে আসার প্রয়োজন বোধ করেননি। তিনি আজ হৃদয়হীন, বিবেকহীন এক নিষ্ঠুর শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। কালো ব্যাজ পরে ওনার এখানে আসা উচিত ছিল, অথচ তিনি দিল্লিতে গিয়ে ‘সার্কাস’ করছেন।’
দুর্ঘটনার আট দিন পর মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তিন সদস্যের এক প্রতিনিধি দল। তাঁদের এই দেরি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, প্রতিনিধিরা নাজিরাবাদ ঘুরে দেখেন এবং বারুইপুর পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠক করেন। ২৬ জানুয়ারির সেই অগ্নিকাণ্ডে ডেকোরেটর ও মোমো কারখানার গুদামে ঠিক কতজন মারা গিয়েছেন, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। বহু দেহাংশ এতটাই পুড়ে গিয়েছে যে চেনার উপায় নেই। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ (DNA) প্রোফাইলিং করা হবে।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে বিরোধী শিবিরের বিজেপি, কংগ্রেস ও সিপিএম একযোগে এই দুর্ঘটনার দায় রাজ্য সরকারের ঘাড়েই চাপিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-ও বঙ্গ সফরে এসে এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কারখানার আঁতাতের অভিযোগ তুলেছেন।
