পঁচিশ সালে কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের সাধারণ পর্যটকের রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল বৈসরনের সবুজ উপত্যকা। এই ক্ষতর যন্ত্রণা কোনওদিন ভুলবে না ভারত! তবুও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে ভূস্বর্গ। এবছর এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের সাক্ষী থাকবে কাশ্মীর। পাহাড়ের কোলে এবার চলচ্চিত্র দুনিয়ায় এক নতুন সফর শুরুর নয়া উদ্যোগ। আগামী ৭ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর কাশ্মীর উপতক্যায় প্রথমবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘কাশ্মীর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব।’
দশকের পর দশক ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের শুটিংয়ের জন্য অন্যতম প্রিয় গন্তব্য কাশ্মীর। দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করা হয়। এবার সেই তালিকার নয়া সংযোজন, ভূস্বর্গ কাশ্মীর। শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে এই চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে প্রদর্শিত হবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের চলচ্চিত্র।
আরও পড়ুন:

২০২৩ সালে কাশ্মীরে অনুষ্ঠিত জি টোয়েন্টি (G20)-এর পর এটিকে উপত্যকায় আয়োজিত আন্তর্জাতিক স্তরের অনুষ্ঠানগুলির মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তথ্য দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৪১টি দেশের মোট ১৩৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, ৮০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ১,১০০টি চলচ্চিত্র জমা পড়েছিল। সেগুলির মধ্য থেকে ১৩৫টি চলচ্চিত্রকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিশ্ব সিনেমার আলোয় মাতবে ভূস্বর্গ।
জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের এই উদ্যোগকে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে উপত্যকার পুরনো সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে আরও শক্তিশালী যোগসূত্র স্থাপনের ইতিবাচক প্রচেষ্টা হিসেবেও সাধুবাদ জানানো হচ্ছে। আয়োজকদের লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলির আদলে প্রতি বছর আয়োজন করা। ভারতের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র দুনিয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

একইভাবে, কাশ্মীরও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং চলচ্চিত্র উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে বলেও আশাবাদী তাঁরা। লাইন প্রযোজক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের জন্য গুলমার্গে একদিনের সফরেরও আয়োজন করা হবে। উদ্দেশ্য, কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের গন্তব্য হিসেবে উপত্যকাকে মেলে ধরা। উৎসবে নির্বাচিত চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে রয়েছে ভারতের ৬৪টি চলচ্চিত্র, ফ্রান্সের ১৩টি এবং ইরানের ৮টি চলচ্চিত্র।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
