এবার ভূগর্ভস্থ জলের খোঁজে ভারত-ফ্রান্স যৌথ মিশন। ইসরোর শ্রীহরিকোটা লঞ্চপ্যাড থেকে রকেটে চেপে আকাশে যাচ্ছে কৃত্রিম উপগ্রহ ‘তৃষ্ণা’। অতিরিক্ত জল উত্তোলন ও খামখেয়ালি আবহাওয়ার কারণে কোথাও অতিবৃষ্টি, কোথাও বা অপর্যাপ্ত বৃষ্টির জেরে ভারতে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এই অবস্থায় শুধু ভারত নয়, গোটা পৃথিবীর অবশিষ্ট ভূগর্ভস্থ পানীয় জলের মানচিত্র তৈরি করবে ‘তৃষ্ণা’। সব ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের শুরুতেই মহাকাশে পাড়ি দেবে ইন্দো-ফ্রান্স যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ অংশীদারিত্ব ছয় দশকের বেশি পুরনো। দেশে দেশে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জনপ্রিয় হয়ে ওঠার অনেক আগেই প্যারিস ও নয়াদিল্লি গবেষণাগার, উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, পারমাণবিক স্থাপনা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতায় কাজ করেছিল। ‘তৃষ্ণা’ বন্ধুত্বপূর্ণ সেই অংশীদারিত্বের নয়া উদাহরণ। ভারতীয় বিজ্ঞানীদের ইচ্ছায় নতুন স্যাটেলাইটের নামকরণ হয়েছে সংস্কৃত শব্দে। এমন একটা সময়ে এই মহাকাশ অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যখন জলবায়ু পরিবর্তন বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক বিন্যাসকে ব্যাহত করছে, হিমবাহগুলি সংকুচিত হচ্ছে, খরা তীব্রতর হচ্ছে এবং মিষ্টি জলের উৎসগুলি অভূতপূর্ব চাপের মুখে। বর্তমান অভিযানের লক্ষ্য হল মহাকাশ থেকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পৃথিবীর অবশিষ্ট পানীয় সম্পদের মানচিত্র তৈরি করা।
আরও পড়ুন:
‘তৃষ্ণা’র পুরো নাম ‘থার্মাল ইনফ্রারেড ইমাজিং স্যাটেলাইট ফর হাই রেজেলিউশন ন্যাচারাল রিসোর্স অ্যাসেসমেন্ট’। লক্ষ্য হল উন্নত রেজোলিউশনে স্পষ্ট ছবি তোলা। পরিষ্কার ধারণা দিতে এক জায়গায় একাধিকবার পর্যবেক্ষণ করবে ‘তৃষ্ণা’। তথ্যের এই উচ্চমাত্রার বিশদ বিবরণ বিজ্ঞানীদের জলচক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন জৈবিক (জলের অভাবজনিত চাপ বা ‘ওয়াটার স্ট্রেস’), ভৌত প্রক্রিয়া (বাষ্পীভবন, ঊর্ধ্বপাতন, বাষ্পপুঞ্জ) এবং জলবায়ুগত (দীর্ঘ সময় ধরে বৈশ্বিক পর্যবেক্ষণ) প্রক্রিয়ার স্থানীয় পরিবর্তন ও বিবর্তন পর্যবেক্ষণ করতে সহায়তা করবে।
আরও পড়ুন:
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, উপগ্রহটি পৃথিবী থেকে ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি উচ্চতায় একটি ‘সান-সিনক্রোনাস’ কক্ষপথ থেকে কাজ করবে। এটি তাপীয় তরঙ্গদৈর্ঘ্যে পৃথিবীকে পর্যবেক্ষণ করবে এবং ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, উদ্ভিদের ওপর বিরূপ প্রভাব, জলের খোঁজ, বাষ্পীভবন এবং বৈশ্বিক জলচক্রের অন্যান্য বিষয়গুলি বিশ্লেষণ করবে। সেই মতো খবর পাঠাবে বিজ্ঞানীদের। এই পর্যবেক্ষণকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর তেষ্টা মেটানোর কাজ করবেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
