‘এনার্জি ড্রিঙ্কে’র নামে চায়ের চুমুকে বিষপান! নবান্নে বৈঠকে উঠল প্রশ্ন

‘এনার্জি ড্রিঙ্কে’র নামে চায়ের চুমুকে বিষপান! নবান্নে বৈঠকে উঠল প্রশ্ন

ইন্ডিয়া খবর/INDIA
Spread the love


এনার্জি বাড়াতে চা পান করছেন, নাকি বিষ! তৈরি চায়ের নমুনা পরীক্ষায় বিপজ্জনক কীটনাশক ‘মনোক্রোটোফস’-এর মতো রাসায়নিকের উপস্থিতি মিলেছে! সেই কথা সামনে আসার পরই একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চায়ের থেকে ক্রেতারা মুখ ফিরিয়েছে। কেউ চা কিনতে রাজি হচ্ছেন না। নিরুপায় হয়ে উত্তরের ২৭৫টি বটলিফ কারখানার কর্তৃপক্ষ ২৭ জুলাই থেকে কারখানা বন্ধ করেছে। আজ, শুক্রবার নবান্নে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী-সহ আধিকারিকদের ক্ষুদ্র চা চাষিদের সমস্যা নিয়ে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের বৈঠক হয়। সেখানেই উত্তরের চা চাষ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ হয়েছে।

বটলিফ কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কাঁচা চা পাতার এমআরএল ল্যাব টেস্ট রিপোর্ট লাগবে। যে চা চাষিরা সেটা দেখাতে পারবেন না, তাদের কাঁচা চা পাতা কারখানায় ঢুকবে না। স্বভাবতই একদিকে যেমন ৫০ হাজার ক্ষুদ্র চা চাষির মাথায় হাত পড়েছে। অন্যদিকে প্রশ্ন উসকে দিয়েছে, ‘এনার্জি ড্রিঙ্কস’-এর নামে চায়ের চুমুকে বিষপান? কেন ওই প্রশ্ন উঠবে না! মনোক্রোটোফস ১১২টি দেশে নিষিদ্ধ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওই কীটনাশককে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এটি অর্গানোফসফেট শ্রেণির রাসায়নিক পদার্থের অন্তর্ভুক্ত। চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মনোক্রোটোফসের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত প্রায় ৮৭ শতাংশ রোগীর ভেন্টিলেটরের সাহায্য প্রয়োজন হয়। মৃত্যুহার আনুমানিক ২৩.৮ শতাংশ।

আরও পড়ুন:

Agriculture Minister holds meeting with officials at Nabanna regarding Darjeeling tea
নবান্নে কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আধিকারিকরা। ছবি-সংগৃহীত

এই কীটনাশক ত্বক অথবা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। এটি পাখি, মৌমাছি এবং অন্যান্য উপকারী পোকামাকড় ধ্বংস করে। অভিযোগ, সেই বিষাক্ত কীটনাশকের রাসায়নিকের উপস্থিতি মিলেছে তৈরি চায়ে। অর্থাৎ কাঁচা চা পাতা উৎপাদনের সময় ‘প্লান্ট প্রোটেকশন কোড’ মানছেন না চা চাষিদের একাংশ। অথচ ভারতীয় চা পর্ষদ চা বাগানে ব্যবহারের জন্য ২০ ধরনের রাসায়ণিক এবং কীটনাশক নিষিদ্ধ করেছে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম মনোক্রোটোফস। সমস্যার কথা অস্বীকার করছেন না কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “সামান্য কিছু চা চাষির জন্য বিপদ গর্জেছে। আমরা শিবির করে মনোক্রোটোফস ব্যবহার না করতে বলছি।”

ক্ষুদ্র চা চাষিদের সমস্যা নিয়ে শুক্রবার নবান্নে কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজয়বাবুরা। নবান্নের বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী অমিয় কিস্কু, দপ্তরের সচিব ওঙ্কারনাথ মীনা, চা পর্ষদের অধিকর্তা সুন্দরাজন, শ্রম দপ্তরের সচিব-সহ সরকারি কর্তারা। সেখানে নিষিদ্ধ কীটনাশকের প্রসঙ্গ এসেছে। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জানান, চা শিল্পের বিপর্যয় ঠেকাতে রাজ্য কৃষি দপ্তর এদিন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিপজ্জনক কীটনাশক ‘মনোক্রোটোফস’ বিক্রির উপরে ফের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *