প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার: এনজেপি থেকে অসম রুটে আপাতত একটি আপ ও একটি ডাউন রেললাইন রয়েছে। তবে ডাবল লাইনের এই রুটে আরেকটি আপ ও ডাউন লাইনের পরিকল্পনা আছে রেলমন্ত্রকের। প্রাথমিক পর্যায়ে এবিষয়ে আলোচনা হলেও এখনও সার্ভের কাজ শুরু হয়নি।
এখন একটিমাত্র আপ ও ডাউন লাইন থাকার ফলে ট্রেন চলাচলে সমস্যা হয়। একই রুটে একই সময়ে একাধিক ট্রেন থাকলে কোনও কোনও ট্রেনকে দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়। বিশেষ করে মালগাড়ি যাওয়ার জন্য যাত্রীবাহী ট্রেন দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে যাত্রাপথের সময় বৃদ্ধি পায়। ফলে দূরপাল্লার যাত্রীদের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়।
নতুন রেললাইন পাতার জন্য প্রয়োজন জমি। রেললাইন সংলগ্ন রেলের জমি রয়েছে। তবে সব জায়গায় তা পর্যাপ্ত নয়। তৃতীয় ও চতুর্থ রেললাইন তৈরি হলে আরও জমি লাগতে পারে। সেসব সমীক্ষা করে দেখবে রেল। প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হলেও এখনও এবিষয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই রেলকর্তারা মুখ খুলতে নারাজ। যদিও উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের ডিআরএম অমরজিৎ গৌতম বলেন, ‘তৃতীয় ও চতুর্থ রেলপথ তৈরি হলে, কোনও ট্রেনকে অযথা দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। এতে ট্রেনের গতি বৃদ্ধি পাবে।’
আলিপুরদুয়ার চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক প্রসেনজিৎ দে-র বক্তব্য, ‘চারটি রেললাইন থাকলে যাত্রীবাহী ট্রেন ও মালগাড়ির জন্য আলাদা লাইন থাকবে। এতে ট্রেনের গতি বৃদ্ধি পাবে। বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতে সময় কম লাগবে। এছাড়া পণ্য পরিবহণেও সুবিধা মিলবে।’
রেলমন্ত্রক জানিয়েছে, প্রথম ও দ্বিতীয় রেললাইন দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করবে। তৃতীয় ও চতুর্থ রেললাইন মালগাড়ির জন্য নির্দিষ্ট করা হতে পারে। এতে যাত্রীবাহী ট্রেনকে আর মালগাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। অপরদিকে, দুটি অতিরিক্ত লাইনে মালগাড়ি যাতায়াত করলে পণ্য পরিবহণেও সময় কম লাগবে। ফালাকাটা, কামাখ্যাগুড়ির পাশাপাশি কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির বিভিন্ন জায়গা থেকে কাঁচামাল নিয়ে সহজে অল্প সময় গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
ফালাকাটা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক নান্টু তালুকদার বললেন, ‘উত্তরবঙ্গে যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্যের একাংশ রেলের উপর নির্ভরশীল। দুটি অতিরিক্ত রেল ট্র্যাকে ট্রেন চলাচল করলে যাত্রাপথের সময় কমবে। এতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীর সুবিধা হবে।’ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি হলে ব্যবসাও উন্নতি ঘটবে বলেই মনে করছেন কোচবিহার জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সুরজ ঘোষ। সেই সঙ্গে স্টেশন ও স্টেশনের যাতায়াতের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।
আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের প্রায় ৬০টি যাত্রীবাহী ট্রেন নিত্য চলাচল করে। পাশাপাশি শতাধিক মালগাড়ি চলে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের পাঁচটি ডিভিশন মিলে সেই সংখ্যা আরও বেশি। পণ্য পরিবহণের পরিমাণ বেশি হলে দুটি রুটে চাপ বৃদ্ধি পায়। তৃতীয় ও চতুর্থ রেল রুট তৈরি হলে সেই সমস্যা মিটবে বলে মনে করছে রেলমন্ত্রক।
