শিশির রায়নাথ
কবিতা লেখা তাঁর শখ, অন্য আরও দশটা শখের মতোই। মধ্য ডুয়ার্সের এক চা বাগানে জন্ম, বেড়ে ওঠা। প্রকৃতি-প্রেম ও রোমান্টিকতা তাই স্বভাবজ। পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র। শিক্ষকতা দিয়ে চাকরি জীবন শুরু, পরে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের আধিকারিক। অবসর জীবনে ফোটোগ্রাফি, ট্রেকিং, দেশ-বিদেশ ভ্রমণ, নাটক-সিনেমা দেখা, সবরকমের গান শোনা আর গাছগাছালি চেনা। ‘মুড’ হলে সামান্য লেখালেখি– মূলত প্রবন্ধ। সুযোগ পেলেই পরিবার নিয়ে জলে-জঙ্গলে-পাহাড়ে হারিয়ে যাওয়া। নিজেকে পাঠক বলতে বেশি ভালোবাসেন। আগে ছিলেন ওমনিভোরাস, এখন সিলেকটিভ– পার্টিকল ফিজিক্স আর জেনেটিক্স। আদিম মানুষেরা কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল সারা পৃথিবীজুড়ে– তার জেনেটিক সিগনেচার নিয়ে পড়াশোনা। সঙ্গে সাহিত্যচর্চা। স্কুলজীবন থেকেই লেখালেখির শুরু। সাত ও আটের দশকে বাংলা সাহিত্যের নামী কাগজগুলোর নিয়মিত লেখক। তারপর দীর্ঘ বিরতি। অবসরে ফিরে আসা। একটিও প্রকাশিত বই নেই। জীবনের সব ক্ষেত্রেই বড় বেশি অগোছাল, উদাসীন। নির্জনতা ভীষণ পছন্দের। আবার মনের মতো স্বজন পেলে তুমুল আড্ডাবাজ। প্রিয় লেখক জীবনানন্দ দাশ, শঙ্খ ঘোষ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস আর নাট্যকার বাদল সরকার।
জন্মান্তর
বিষণ্ণ প্রেতের মতো এই শহর। শব্দ ও ধুলোয় ঢাকা
আর্মি কনভয় ছুটে যাচ্ছে দেবদারু অ্যাভিনিউ দিয়ে
ওপাশে বৈকুণ্ঠপুর। শাল বন। পাতা পোড়ানোর গন্ধে আলুথালু….
জন্মান্তরে যাবে বলে দুটো হর্নবিল এই মাত্র সেনাছাউনি ছেড়ে
উড়ে গেল গুলমার দিকে
আমাদেরও জন্মান্তর হোক। খর অস্ত্রের মতো
আবার তুলে ধরো তোমার ঠোঁট
হে চুমুক, দীর্ঘস্থায়ী হও
অকাতর ঝরে যাক আমাদের প্রাণহীন রঙিন পাতারা….
The publish উত্তরের কবিমুখ appeared first on Uttarbanga Sambad.
