দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। অথচ তাতে গেলেন না অখিলেশ যাদব। ইন্ডিয়া জোটের ৩ বছরের ইতিহাসে এমন কখনও হয়নি। যখনই জোট শরিকদের শীর্ষ স্তরের বৈঠক হয়েছে, অখিলেশকে দেখা গিয়েছে সভা আলো করে বসে থাকতে। কিন্তু মঙ্গলবার এত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক তাও আবার উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের আগে, তা সত্ত্বেও অখিলেশ যাদবকে ওই বৈঠকে দেখা গেল না। যা নিয়ে রীতিমতো গুঞ্জন শুরু হয়েছে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে।
অখিলেশ সরকারিভাবে ইন্ডিয়া জোটকে জানিয়েছেন, রাজ্যের ১০ আসনের রাজ্যসভা ভোটের কাজে তিনি ব্যস্ত। তাই বৈঠকে যায় তাঁর প্রতিনিধি। তাতে রাজনৈতিক মহলে ফিসফাস শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যসভার নির্বাচন কী এমন গুরুত্বপূর্ণ যাতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকও উপেক্ষা করতে হবে? সপা সূত্র বলছে, অখিলেশ এই রাজ্যসভা ভোটকে বিরাট গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি চাইছেন বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপিকে চমকে দিতে। যাতে বোঝানো যায় বিজেপি অপরাজেয় নয়।
আরও পড়ুন:
আগামী ১৬ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের ১০ আসনের রাজ্যসভা নির্বাচন। এই মুহূর্তে উত্তরপ্রদেশে এনডিএ-র বিধায়ক সংখ্যা ২৯৪। অর্থাৎ ওই ১০ আসনের মধ্যে ৭টি আসনে এনডিএর জয় নিশ্চিত। সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক সংখ্যা ১০০। ১২ জন বিধায়ক সপার টিকিটে নির্বাচিত হয়েও বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ২। খাতায়কলমে অখিলেশের দলের দুই আসনে জয় নিশ্চিত। লড়াই দশম আসনের জন্য। হিসাব বলছে, বিজেপি পাঁচ বিধায়ককে ক্রসভোট করাতে পারলে ওই আসনটি জিতবে। তাঁরা সেই আশায় ৮জন প্রার্থী দিচ্ছে। আর অখিলেশ যাদব যদি ১২ জন বিধায়ককে ক্রসভোট করাতে পারেন তাহলে তিনি তৃতীয় আসনটি জিতবেন। সপা সূত্র বলছে, সেই চেষ্টাটাই পার্টির সুপ্রিমো করছেন। তৃতীয় আসনে তিনি প্রার্থী করেছেন শিল্পপতি ধনরাজ পরিমল নাটওয়ানিকে। অখিলেশ একপ্রকার এনডিএর অন্দরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করতে চাইছেন। যে সব বিধায়করা সপা থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। যোগাযোগ করছেন এনডিএর ছোট শরিকদের সঙ্গেও। যে কোনওভাবে ১২ জন বিরোধী বিধায়কের সমর্থন তিনি জোগাড় করতে চান। সেটা সফলভাবে করতে পারলে ভোটের আগে একটা জবরদস্ত ধাক্কা বিজেপিকে দেওয়া যাবে বলে আশাবাদী সপা। সেই ব্যবস্থাপনাতেই তিনি ব্যস্ত।
অন্য তত্ত্বও আছে। সমাজবাদী পার্টির একটি সূত্র বলছে, এখনই অখিলেশ যাদব রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গের মুখোমুখি হতে চাইছেন না। কংগ্রেস চাইছে দু’দলের মধ্যে আসনরফা দ্রুত সেরে ফেলতে। কিন্তু তাঁরা অন্তত ১৫০ আসন দাবি করছে। তাতে অখিলেশ নারাজ। তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে ততক্ষণ আসনরফা নিয়ে আলোচনায় বসতে চান না যতক্ষণ কংগ্রেস বাস্তবসম্মত আসনের দাবি করছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
