আসানসোলে ৩৫০ কোটির চিটফান্ড কেলেঙ্কারি! পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতার ছেলে

আসানসোলে ৩৫০ কোটির চিটফান্ড কেলেঙ্কারি! পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতার ছেলে

ইন্ডিয়া খবর/INDIA
Spread the love


শেখর চন্দ্র, আসানসোল: ফের রাজ্যে চিটফান্ডের ফাঁদ! ৩৫০ কোটি টাকা প্রতারণার খবর ছড়িয়ে পড়ার দিন তিনেকের মধ্যেই হাতেনাতে পাকড়াও মূল অভিযুক্ত। শনিবার রাতে আসানসোল থেকে ১৯ নং জাতীয় সড়ক ধরে ঝাড়খণ্ডে পালানোর সময় হাতেনাতে ধরা পড়ল তৃণমূল নেতার ছেলে তহসিন আহমেদ। উত্তর আসানসোলের চন্দ্রচূড় মোড়ের কাছে গ্রেপ্তারির পর তাঁর গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় আড়াইশো গ্রাম সোনা, যার বাজারমূল্য ৪০ লক্ষ টাকারও বেশি। পুলিশ সূত্রে খবর, কোটি কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ পেয়েই তদন্ত শুরু হয়েছিল। তহসিনের গতিবিধির দিকে নজর রেখে এদিন ফাঁদ পেতে তাকে জালে আনা হয়।

শুরুটা হয়েছিল মেগা লটারির নাম নিয়ে। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, ১ লক্ষ টাকার টিকিটের সদস্যতা নিলে বিনিয়োগকারীর লাভ হবে দেড় থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত। কম সময় রাখলে কম লাভ। বেশি সময় টাকা রাখলে বেশি লাভ। টাকার বিনিয়োগ যত বেশি। লাভের অঙ্ক তত বেশি। অতি লোভে বাড়ির গয়না বন্ধক রেখে, জমি বিক্রি করে নানা সময়ে নানা জন টাকা জমা দিয়েছেন তহসিনের ওই সংস্থায়। কয়েক বছর ধরে প্রতিশ্রুতি মতো টাকা ফেরতও পেয়েছেন তাঁরা। কিন্তু বাধ সাধল আগস্ট মাস থেকে। বন্ধ হয়ে গেল চড়া হারের মাসিক রিটার্ন। তারপর থেকে গন্ডগোল শুরু।

জনতার ক্ষোভের মুখে তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের জেলার নেতা শাকিল আহমেদের ছেলে তহসিন আহমেদ। নিজস্ব ছবি।

কয়েক মাস ধরে তহসিন আহমেদের বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করে প্রতারিতরা। ক্ষোভ-বিক্ষোভ চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায় বৃহস্পতিবার। তখনই সামনে আসে চিটফান্ডের কায়দায় প্রায় সাড়ে তিনশো কোটি টাকার প্রতারণা হয়েছে। প্রতারিত হয়েছেন তিন হাজার আমানতকারী। উত্তর আসানসোলের জাহাঙ্গির মহল্লার বাড়ি ও অফিস তালা দিয়ে গা ঢাকা দেয় তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের জেলার নেতা শাকিল আহমেদ, ছেলে তহসিন আহমেদ ও পুরো পরিবার। প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়তে থাকে থানায়। তারপরে বাড়তে থাকে তৃণমূল নেতৃত্বের অস্বস্তি। দলের সংখ্যালঘু সেল যদিও শাকিল এবং তহসিনের সঙ্গে সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে। সংশ্লিষ্ট জেলা সভাপতি মেহফুজুল হাসানের কথায়, ‘‘অভিযুক্ত তহসিন আহমেদের বাবা শাকিল আহমেদের সঙ্গে এখন দলের কোনও যোগাযোগ নেই। আগে উনি সংখ্যালঘু সেলের সহ-সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে উনি দলের কেউ নন।’’

১৯ নং জাতীয় সড়কে চন্দ্রচূড় মন্দিরের কাছ থেকে গ্রেপ্তার তহসিন। নিজস্ব ছবি।

শেষমেশ অবশ্য ধরা পড়ে তহসিন। জনবিক্ষোভ, পুলিশি তৎপরতার জেরে আর আসানসোলে গা ঢাকা দিয়ে থাকা নিরাপদ মনে করেনি সে। পরিকল্পনা করে এতদিন ধরে জনতার থেকে আদায় করা টাকা, সোনার গয়না সব নিয়ে ঝাড়খণ্ড পালানোর পরিকল্পনা করে। পুলিশও সতর্ক ছিল তার গতিবিধি নিয়ে। ১৯ নং জাতীয় সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তার গাড়ি পাকড়াও করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় তহসিনকে। রবিবার তাকে আদালতে পেশ করা হবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ







Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *