আয়ুষ্মান ভারতে জালিয়াতির অভিযোগ। এই অবস্থায় কড়া সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। কেন্দ্রের স্বাস্থ্যবিমার অন্তর্ভুক্ত দেশের ২৩৫৯ হাসপাতালকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হল। একই ধরনের অভিযোগে আরও ১২০০ হাসপাতালকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। গত ৭ আগস্ট, শুক্রবার লোকসভায় লিখিত জবাবে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডা।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিমার অন্তর্ভুক্ত এই হাসপাতালগুলি নিয়ম ভাঙায় ২৯টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যবিমায় প্রতারণা এবং চিকিৎসার বেআইনি বিল হাসপাতালগুলি যাতে তৈরি না করে, তা নিশ্চিত করতে অভিযুক্ত হাসপাতালগুলিকে ৩২৮.৪৯ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সাড়ে তিন হাজারের বেশি হাসপাতালের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় উপভোক্তাদের কেন্দ্রের পরামর্শ, স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের সুবিধা নিতে হাসপাতালগুলির বর্তমান তালিকা দেখে নিন।
আরও পড়ুন:
অভিযুক্ত হাসপাতালগুলির দুর্নীতি শনাক্ত করতে ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি (এনএইচএ) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তিকে ব্যবহার করেছে। নাড্ডা জানিয়েছেন, ভুয়ো বিল, একই দাবির পুনরাবৃত্তি (ডুপ্লিকেট ক্লেম) ইত্যাদি দুর্নীতি ধরতে প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির সাহায্যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালগুলির দুর্নীতি চিহ্নিত করা হচ্ছে। উপযুক্ত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের প্রযুক্তির সাহায্যে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৬৭৬.১৬ কোটির আর্থিক ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প শুরু করে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। এই প্রকল্পের উপভোক্তা পরিবারকে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেয় কেন্দ্র। সংসদে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ কোটি ৭৫ লক্ষ নতুন আয়ুষ্মান কার্ড তৈরি হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৭৪ লক্ষ ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এনএইচএ-র পোর্টালের তথ্য বলছে, ২০২৬-এর ৮ অগস্ট পর্যন্ত এই প্রকল্পের তালিকাভুক্ত ৩৪ হাজার ৪৩৭টি হাসপাতাল। এর মধ্যে ২০ হাজার ৩৬৩টি সরকারি হাসপাতাল এবং ১৮ হাজার ৭৪টি বেসরকারি হাসপাতাল। বলা বাহুল্য, কেন্দ্রের পদক্ষেপের ফলে বিমার আওতাভুক্ত হাসপাতালের সংখ্যা কমেছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
