ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৪০ লক্ষ ভোটে লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন ফ্লাভিও বলসোনারো। তারপরই দেশ ছেড়ে পালিয়ে সপরিবারে ‘আশ্রয়’ নেন আমেরিকায়। এবার মার্কিন মুলুকে দাঁড়িয়ে নিজেকে ব্রাজিলের ‘আসল প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা করলেন তিনি। একইসঙ্গে আমেরিকা থেকেই লুলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিরোধিতা করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডলে একটি বিবৃতিতে বলসোনারো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ আনেন। বলেন, “আমিই ব্রাজিলের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। যাঁরা ভোটচুরি করেছে, তাঁরা আসলে একটি অপরাধ চক্রের অংশ। ব্রাজিলে তাঁরা স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়।” তবে পরবর্তী একটি বিবৃতিতে হার স্বীকার করে নিয়ে তিনি নিজেকে বিরোধী দলের ‘নেতা’ হিসাবে অভিহিত করেন। তাঁর কথায়, “আমি এখান থেকেই বিরোধী দলের নেতৃত্ব দেব।”
আরও পড়ুন:
দক্ষিণপন্থী নেতা বলসোনারোর বাবা জাইর বলসোনারো এই মুহূর্তে জেলে। এদিকে ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুচ্ছ অভিযোগ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিল, নিজের পাসপোর্ট জমা রাখতে। এতদিন তিনি মসনদে ছিলেন বলে তাঁর গ্রেপ্তারিতে রক্ষাকবচ ছিল। এখন মসনদ খোয়ানোর পরে গ্রেপ্তারির আশঙ্কাও বেড়েছে। তাই আর ঝুঁকি না নিয়েই ‘বন্ধু’ ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশে পালিয়েছেন তিনি, দাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের।
তবে দেশ থেকে ‘পালানো’র দাবি খারিজ করে দিয়েছেন বলসোনারো। জানান, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং ক্রমশ কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠা এক রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে বাঁচতেই তিনি দেশ ছেড়েছেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকে তাঁদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদও জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমেরিকা এমন একটি জায়গা যেখানে তাঁর পরিবার সেই আইনি নিরাপত্তা পেতে পারে, যা তাঁর নিজের দেশে আর অবশিষ্ট নেই।” বলসোনারো লিখেছেন, ‘আমি ব্রাজিল থেকে পালিয়ে আসিনি; বরং ব্রাজিলের স্বার্থেই আমি দেশ ছেড়েছি।’ তাঁর যুক্তি, দেশে থাকলে তিনি নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেতেন না।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বলসোনারো এবং তাঁর পরিবারের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্রাজিলের নির্বাচনকে ‘খুবই অদ্ভুত’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে বলসোনারোর ‘আসল প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণায় তিনি সমর্থন জানাননি। জানিয়ে দিয়েছেন, এবিষয়ে তিনি নিজেকে জড়াবেন না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
