১১৫ কোটি টাকারও বেশি দুর্নীতি! একাধিক প্রশ্নের উত্তর পেতে গভীর রাত পর্যন্ত জেরা ইন্দ্রনীলকে

সিনেমা/বিনোদন/থিয়েটার
Spread the love


দুর্গাপুজোর অবৈধ পাস বিক্রি ও প্রতারণায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মামলায় কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাদের হাতে গ্রেপ্তার মমতা ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার ইডির দপ্তর থেকে বেরতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন-সহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও তাঁদের সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর বিরুদ্ধেও মামলা শুরু হয়েছে। লালবাজারের গোয়েন্দাদের দাবি, ইউনেসকোর নাম, সুনাম ও লেগো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার প্রয়োজনীয় অনুমোদন ‘মাস আর্টে’র ছিল না। দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি ছাড়াও মন্ত্রিপদের অপব্যবহার করে তথ্য সংস্কৃতি দফতরের অনুষ্ঠান ও বইমেলায় কোটি কোটি টাকার টেন্ডার বেআইনিভাবে ঘনিষ্ঠদের পাইয়ে দেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগও রয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। গোয়েন্দাদের দাবি, আপাতত পুজো ও টেন্ডার কান্ড মিলিয়ে প্রায় ১১৫ কোটি টাকার বেশি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হয়েছে। এই সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য পেতেই ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেপ্তার করেন গোয়েন্দরা।

শুধু লালবাজার নয়, পৃথকভাবে ঘটনার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও। অভিযোগ, সরকারি টেন্ডারের নিয়ম ভেঙে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ইন্দ্রনীল তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সংস্থাকে পাইয়ে দেন।

আরও পড়ুন:

জানা গিয়েছে, বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত সংগৃহীত নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও বৈদ্যুতিন নথি, ব্যায় অ্যাকাউন্ট সামনে রেখে ইন্দ্রনীল সেনকে জেরা করেন গোয়েন্দারা। দীর্ঘ জেরা পর্বে তিনি একাধিক তথ্য এড়িয়ে যান বলে খবর। এদিকে আজ, বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে ইন্দ্রনীলকে হাজির করে নিজেদের হেফাজতে চাইবেন গোয়েন্দারা। শুধু তাই নয়, আদালতে রাজ্যে কী জানায় সেদিকেও থাকবে নজর। লালবাজারের অভিযোগ, ইন্দ্রনীলের মদতে ইউনেসকোর নাম ভাঁড়িয়ে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পুজোয় ‘মাস আর্টকে সামনে রেখে কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মেয়ে, আত্মীয়র নামে থাকা বেশ কয়েকটি ভুয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে। যদিও এই বিষয়ে আরও গভীরে গিয়ে তদন্ত করছেন আধিকারিকরা।

শুধু লালবাজার নয়, পৃথকভাবে ঘটনার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও। অভিযোগ, সরকারি টেন্ডারের নিয়ম ভেঙে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ইন্দ্রনীল তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সংস্থাকে পাইয়ে দেন। ইন্দ্রনীলের মালিকালীন সংস্থা ‘অক্টে রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩.৮ কোটি টাকা নগদে জমা পড়ে। অক্টেভের ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয় বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। এদিকে ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার হতেই অভিযোগকারী জয়দীপ বলেন, “২০২৩ সাল থেকে লড়াইয়ের ফল আজ পেলাম।” অন্যদিকে ইন্দ্রনীল সেনের আইনজীবীর দাবি, “প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সব অভিযোগ ভুয়ো। কোর্টে প্রমাণ দেব।”

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *