স্কুলে ছুরি নিয়ে হামলাই প্রথম নয়। তার আগের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবারও সহপাঠীর উপর হামলা চালিয়েছিল অভিযুক্ত ছাত্র। একই সহপাঠীর গলা টিপে তার উপর হামলার চেষ্টা করে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্তকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ায় বড় কোনও অঘটন হয়নি। আবার তিন মাস আগেও ঘটেছিল একটি ঘটনা। ওই আহত ছাত্রের উপর হামলা চালায় অভিযুক্ত ছাত্রটি। দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাটে একটি নামী স্কুলের ভিতর নবম শ্রেণির এক ছাত্রের উপর ছুরি নিয়ে সহপাঠীর হামলার ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের হাতে। আহত ছাত্র অটিস্টিক। সে মূলত নিজের মতোই একা থাকা পছন্দ করত। কয়েকজন বন্ধু মিলে তার সঙ্গে জমা করত ও তা থেকে তাদের উপর অভিযুক্ত ছাত্রের রাগ জন্মেছিল কিনা, সেই তথ্য পুলিশ জানার চেষ্টা করছে।
পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ওই স্কুলকে গড়িয়াহাট থানার পক্ষে নোটিস দেওয়া হয়েছে। স্কুলের সিসিটিভির ফুটেজ ও হামলার ‘অস্ত্র’ ছুরিটি পুলিশের হাতে তুলে দিতে বলা হয়েছে। কীভাবে ছুরির মতো কোনও মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে স্কুলের ভিতর ছাত্র প্রবেশ করল, তা নিয়ে চলছে তদন্ত। এ ছাড়াও ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পর কেন স্কুলের তরফে ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়, তার উত্তর পুলিশ জানার চেষ্টা করছে। অভিযুক্ত ছাত্রর পরিবারের কাছ থেকে কিছু নথি নেওয়া হচ্ছে। জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের কাছে ওই কিশোরকে তুলতে পারে পুলিশ। জেজেবি-র নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ইতিমধ্যেই আহত ছাত্রর সঙ্গে পুলিশ কথা বলেছে। সিসিটিভির ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্য অনুযায়ী পুলিশ জেনেছে, বুধবার দুপুরে স্কুলটি ডে সেকশনে প্রথম পিরিয়ডেই ঘটনাটি ঘটে।
আরও পড়ুন:
স্কুলের প্রথম বেঞ্চেই বসে ছিল অভিযুক্ত ছাত্রটি। আহত ছাত্রটি ও আরও কয়েকজন ছাত্র শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলছিল। শিক্ষিকা ছাত্রদের নির্দিষ্ট বেঞ্চে বসতে বলেন। আহত ছাত্রটি বেঞ্চে বসার জন্য দরজার কাছাকাছি যায়। অভিযুক্ত ছাত্রটিকে ব্যাগ থেকে কিছু বের করতে দেখা যায়। এর পরই অভিযুক্ত বেঞ্চ থেকে উঠে তার সহপাঠীর পাশে এসেই ছুরিটি চালিয়ে দেয়। তখনই আহত ছাত্রটি হাত দিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন তার আঙুলে গুরুতর আঘাত লাগে। কেটে যায় গলার একাংশও। আহত ছাত্রটি বেঞ্চের দু’টি রো-এর মাঝখানের অংশে আর্তনাদ করতে করতে লুটিয়ে পড়ে। তা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ক্লাসের অন্য ছাত্র ও ছাত্রীরা। অভিযুক্ত ছাত্রটি ঘটনার পরই ক্লাস থেকে বেরিয়ে যায়।
পুলিশের কাছে খবর, তিন মাস আগে গোলমালের জেরে ব্লেডের মতো কোনও বস্তু দিয়ে অভিযুক্ত ছাত্রটি ওই একই সহপাঠীর উপর হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু তখন তার অভিভাবকরা স্কুলে কোনও অভিযোগ জানাননি। গোলমাল মিটেও গিয়েছিল। মঙ্গলবার বই ছেঁড়ার বিষয়টি নিয়ে স্কুল ছুটির পর ওই ছাত্রের মধ্যেই মারপিট হয়। তখন অভিযুক্ত গলা টিপে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল সহপাঠীর। যদিও তাকে ধাক্কা দিয়ে সে সরিয়ে দেয়। এর পরই ঘটে বুধবারের ছুরি নিয়ে হামলার ঘটনা। তারই ভিত্তিতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
