অধিকৃত কাশ্মীরকে সরাসরি পাকিস্তানি ভূখণ্ড বলে আখ্যা দিল মার্কিন সংবাদপত্র! দিনদুয়েক আগে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নির্বাচন হয়েছে। সেই খবর প্রকাশ করতে গিয়ে কাশ্মীরকে ‘পাকিস্তান’ হিসাবে অভিহিত করল বিখ্যাত মার্কিন সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমস। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশের সংবাদপত্রের এহেন কাণ্ডে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে ভারত। সাফ মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। পাকিস্তান বেআইনিভাবে তা দখল করে রেখেছে।
পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ৩ দফা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট ছিল গত সোমবার। নির্বাচন শুরু হতেই নানা জায়গা থেকে হিংসার খবর আসতে থাকে। শোনা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষের উপর এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়েছে পাকিস্তান পুলিশ। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২০ জনের। নির্বাচন সংক্রান্ত খবর সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমেই প্রকাশিত হয়েছে। কিন্ত নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের শিরোনাম ঘিরে দানা বেঁধেছে বিতর্ক। পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে তারা লিখে দিয়েছে ‘পাক কাশ্মীর’। জানিয়েছে ‘পাক কাশ্মীরে নির্বাচনী হিংসার বলি অন্তত ৩০ জন।’
আরও পড়ুন:
এই শিরোনাম নিয়ে সুর চড়িয়েছে আমেরিকার ভারতীয় দূতাবাস। এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়, ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস ভুল এবং বিভ্রান্তিকর শিরোনাম লিখেছে। পাকিস্তানি কাশ্মীর বলে আদতে কিছু নেই, ওটা পাক অধিকৃত কাশ্মীর। আসলে জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ সবসময় ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। কিন্তু এই এলাকাগুলির কিছু অংশ পাকিস্তান বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে। এখন অধিকৃত এলাকার সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে।’
উল্লেখ্য, নির্বাচন চলাকালীন পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আমজনতার উপর হিংসার ঘটনায় সরব হয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়ার ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক ইসাবেল লাসি বলেন, “রাওয়ালকোট থেকে উদ্বেগজনক খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তারক্ষীরা যে পদক্ষেপ করেছে, তা পাকিস্তানের হিংসার ইতিহাসেরই ধারাবাহিকতা। গোটা ঘটনায় অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে।” জানা গিয়েছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রয়েছে গত তিনদিন ধরে। সবমিলিয়ে, আমজনতার বেহাল দশা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
