থলে হাতে বাজারে চলেছেন ভজাবাবু। বাজার আমে আমময়। চাদ্দিকে হিমসাগর-ল্যাঙড়ার সুবাস। এই মরশুমে শেষপাতে একটু আম না হলে আর কীই-বা রইল এ জীবনে? ভজাবাবু তেমনটাই মনে করেন। তাই, ব্যাগভর্তি আম কিনে ফিরলেন বাড়ি। আর ফিরেই গেরো! একটি আমও ভজাবাবু পেলেন না। বদলে গিন্নি আম দিয়ে রেঁধে দিলেন ‘আম ভাপা দই’। আর সেই রাজকীয় ডেজার্ট লেগে রইল ভজাবাবুর মুখে। রেস্তরাঁর এই সিগনেচার ডিশ বানানো যেমন সোজা, তেমনই সাশ্রয়ী। খুদে সদস্য থেকে অতিথি, শেষপাতে এই পদ পেলে সবাই খাবে চেটেপুটে। ভজাবাবুর এখন একটাই প্রশ্ন, গিন্নি কীভাবে রাঁধলেন এই ‘আম ভাপা দই’? আপনিও জানতে চান? দেখে নিন একনজরে।

আরও পড়ুন:
প্রয়োজনীয় উপাদান
মিষ্টি পাকা আম (হিমসাগর বা ল্যাংড়া): ২টি বড় সাইজের (১ কাপ পাল্প)
জল ঝরানো টক দই: ২ কাপ
কনডেন্সড মিল্ক: ১ কাপ বা ২০০ গ্রাম (টিনের অর্ধেক)
সাজানোর জন্য: আমের ছোট টুকরো, পেস্তা কুচি ও জাফরান সামান্য

প্রস্তুত প্রণালী
প্রথম ধাপ: একটি পাতলা সুতির কাপড়ে টক দই বেঁধে ঘণ্টা দুয়েক ঝুলিয়ে রাখুন। দইয়ের জল পুরোপুরি ঝরে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই ‘হাং কার্ড’-ই হল পারফেক্ট ভাপা দইয়ের আসল সিক্রেট।
দ্বিতীয় ধাপ: মিক্সির জারে জল ঝরানো দই, আমের পাল্প এবং কনডেন্সড মিল্ক একসঙ্গে নিন। এবার খুব ভালো করে ব্লেন্ড করে একটি মসৃণ মিশ্রণ তৈরি করুন। খেয়াল রাখবেন, মিশ্রণে যেন কোনও ডেলা না থাকে।
তৃতীয় ধাপ: একটি স্টিলের টিফিন বক্স বা অ্যালুমিনিয়ামের বাটিতে সামান্য ঘি মাখিয়ে নিন। এতে মিষ্টির তলাটা আটকে যাবে না। এবার আমের মিশ্রণটি ওই বাটিতে ঢেলে দিন।
চতুর্থ ধাপ: বাটির মুখটি ফয়েল পেপার বা ঢাকনা দিয়ে খুব শক্ত করে আটকে দিন। এবার কড়াইতে জল গরম করে মাঝে একটি স্ট্যান্ড বসান। তার ওপর বাটিটা রেখে ঢাকা দিন। মাঝারি আঁচে ২০-২৫ মিনিট ভাপাতে দিন। গ্যাস না থাকলে প্রেশার কুকারে সামান্য জল দিয়ে সিটি ছাড়া ২০ মিনিট রাখলেও কাজ হবে।
পঞ্চম ধাপ: কড়াই থেকে নামিয়ে মিশ্রণটি সম্পূর্ণ ঠান্ডা হতে দিন। এরপর অন্তত ৩ ঘণ্টার জন্য ফ্রিজে রেখে সেট করে নিন। ফ্রিজ থেকে বের করে ধারালো ছুরি দিয়ে বরফি আকারে কেটে নিন। ওপর থেকে আমের কিউব, পেস্তা কুচি ও জাফরান ছড়িয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।
কিছু জরুরি টিপস
১) আম যেন মিষ্টি ও পাকা হয়। আম টক হলে ভাপানোর সময় দই ফেটে জল হয়ে যাবে।
২) ভাপানোর সময় বাটির ঢাকনা টাইট রাখুন। প্রয়োজনে ডাবল ফয়েল পেপার ব্যবহার করুন, যাতে বাষ্পের জল ভেতরে না ঢোকে।
৩) বেশি সময় ধরে ভাপাবেন না। ২০ মিনিট পর একটি টুথপিক ঢুকিয়ে পরীক্ষা করে নিন। কাঠি পরিষ্কার বেরোলেই বুঝবেন ভাপা দই তৈরি।
৪) ফ্রিজে এয়ারটাইট বক্সে রাখলে এই মিষ্টি ৩ দিন ভালো থাকে। তবে বানানোর পরের দিন এর স্বাদ খোলে সবচেয়ে বেশি। আমের মরশুম ফুরনোর আগেই আজই রান্নাঘরে বানিয়ে নিন এই ম্যাজিক ডেজার্ট।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
