ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। সীমান্তে ওপারে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ইতিমধ্যে এহেন মন্তব্যে সুর চড়াতে শুরু করেছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এহেন মন্তব্যকে ‘পলিটিক্যাল স্টান্ট’ হিসাবেই দেখছে বাংলাদেশ সরকার। তারেক রহমান সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, একজন রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত মন্তব্যের ভিত্তিতে ঢাকা কোনও প্রতিক্রিয়া দেবে না। তবে হাদি খুনের ঘটনায় ধৃতদের বাংলাদেশে ফেরাতে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক এবং আইন মেনেই কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এহেন মন্তব্যকে ‘পলিটিক্যাল স্টান্ট’ হিসাবেই দেখছে বাংলাদেশ সরকার। তারেক রহমান সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, একজন রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত মন্তব্যের ভিত্তিতে ঢাকা কোনও প্রতিক্রিয়া দেবে না। তবে হাদি খুনের ঘটনায় ধৃতদের বাংলাদেশে ফেরাতে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক এবং আইন মেনেই কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এই প্রসঙ্গে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের মন্তব্য করা উচিত নয়। বিদেশমন্ত্রকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ”প্রতিবেশী দেশে একটি নির্বাচন হয়েছে। যিনি হেরেছেন, তিনি বলছেন ওনাদের সরকারের উদ্দেশ্য করে। সেটা নিয়ে বাংলাদেশের মন্তব্য করা উচিত হবে না বলে আমি মনে করি। এটা আমাদের আলোচনা করার মতো বিষয় নয়।” তবে ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে যুক্তদের বাংলাদেশে ফেরানো নিয়ে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী জানান, অলরেডি এটা নিয়ে কাজ চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং বিদেশমন্ত্রক খুব সিরিয়াসলি কাজ করছে। এই প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ”হাদি হত্যার বিচার আমরা চাই। যারা ধরা পড়েছে ভারত থেকে তাঁদের ফেরত এনে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে।” একইভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক খেলা’ হিসেবেই ব্যাখ্যা করছে বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলি।
অন্যদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাদিকে নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ইনকিলাব মঞ্চে নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্দোলনে গতি বাড়াচ্ছে সংগঠনটি। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, খুনিদের চিহ্নিত করা, পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনা ও দ্রুত বিচারের দাবিতে নতুন করে একগুচ্ছ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা। শুধু তাই নয়, শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। সেই বিক্ষোভ-সমাবেশ থেকেই শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার ঘটনায় জড়িত খুনিদের চিহ্নিত করা, বিচারের দাবি-সহ একাধিক দাবি তোলা হয়েছে। দ্রুত বিচার না হলে আগামিদিনে ঢাকার শাহবাগে অবস্থানে বসারও ডাক দেওয়া হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা আবদুল্লাহ আল জাব অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসেছে তিন মাস পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত সরকার ওসমান হাদির বিচারের ব্যাপারে কোনও ধরনের সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি। শুধু তাই নয়, কোনও নির্দিষ্টও তথ্যও দিতে পারেনি। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকেও হাতিয়ার করেন ওই নেতা। তাঁর মন্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বক্তব্য দিয়েছেন, বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের উচিত ছিল সেই বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া। সত্য–মিথ্যা ঘটনা উদঘাটন করা। কিন্তু বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী যেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন, তার সমালোচনা করেন আবদুল্লাহ জাব।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
