‘সরকারি সম্পত্তির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে বেমানান’, কৃষি ভবন চত্বরের মসজিদ ভাঙা নিয়ে যুক্তি কেন্দ্রের

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


ভারত সরকারের কৃষি ভবন চত্বরে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন ‘কাদিমি মসজিদ’। মঙ্গলবার দিল্লি হাই কোর্টে কেন্দ্র জানাল, সেন্ট্রাল ভিস্তা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষি ভবনের চত্বরের ভিতরে অবস্থিত ‘কাদিমি মসজিদ’টিকে ভেঙে ফেলা হবে। যুক্তি দেওয়া হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারি কমপ্লেক্সের ভিতরে একটি স্থায়ী ধর্মীয় ভবন “অনুমোদনযোগ্য নয়। বিষয়টি সরকারি সম্পত্তির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ”।

হাই কোর্টে দাখিল করা হলফনামায় সরকার জানিয়েছে, কৃষি ভবন এবং কেন্দ্রীয় সচিবালয় কমপ্লেক্স হল ধর্মনিরপেক্ষ সরকারি প্রাঙ্গণ। যা কেবল সরকারি, প্রশাসনিক ও জনসেবামূলক কার্যাবলির জন্যই নির্ধারিত। কেন্দ্রের তরফে আইনজীবী নিশান্ত গৌতম বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তর চত্বরের সীমানার মধ্যে কোনও স্থায়ী ধর্মীয় স্থাপনা প্রতিষ্ঠা, থাকা বা সেটিকে সেখানেই রাখার দাবি করা অগ্রহণযোগ্য। বিষয়টি সরকারি সম্পত্তির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের পরিপন্থী।”

আরও পড়ুন:

কেন্দ্র জানিয়েছে, ‘সেন্ট্রাল ভিস্তা রিডেভেলপমেন্ট মাস্টার প্ল্যান’-এর আওতায় ১২০ নম্বর প্লটে ‘কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং (সচিবালয়) ৪ ও ৫’ পুনর্নির্মাণ করা হবে। এর ফলে বর্তমান শাস্ত্রী ভবন ও কৃষি ভবনকে নতুন করে গড়ে তোলা হবে। লক্ষ্য হল জাতীয় শাসনকার্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে আধুনিক করে তোলা। হাই কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় জানানো হয়েছে, মসজিদটি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডে অবস্থিত কৃষি ভবনের চত্বরের ভেতরেই রয়েছে। এটি এমন সরকারি জমিতে রয়েছে যা এল অ্যান্ড ডিও (L&DO) প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন।

আরও পড়ুন:

কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তি হল, কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক এলাকার সরকারি জমিতে কোনও স্থায়ী ধর্মীয় ভবন থাকতে পারে না। সরকার আরও জানিয়েছে, ১৯৪০ সালের ৮ নভেম্বরের একটি চুক্তির অধীনে মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটিকে তা কেবল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এতে ওই জমির ওপর তাদের কোনও অধিকার জন্মায় না। সেই কারণেই মসজিদটি সংরক্ষণ কিংবা সেটি স্থানান্তরের জন্য বিকল্প জমি প্রদানের বিষয়ে কমিটির দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার।

প্রসঙ্গত, ‘সেন্ট্রাল ভিস্তা’ পুনর্উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক ভবনটিকে ভেঙে ফেলার আশঙ্কায় হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কাদিমি মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক কমিটি। তাদের দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতেই উচ্চ আদালতে এই হলফনামা জমা দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। ২ নভেম্বর শুনানির সময় বিচারপতি অনীশ দয়াল জানতে চান, সরকারি চত্বরে কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য প্রার্থনার স্থান বরাদ্দ নিষিদ্ধ, এমন কোনও আইন আছে কি? অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল জানান, আদালতের এই প্রশ্ন কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেবেন। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৩ নভেম্বর।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *