কলকাতা পুরসভায় আসন পুনর্বিন্যাসের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের পাশাপাশি মহিলা সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও প্রচলিত নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে! এমনই অভিযোগে সরব হওয়ার পাশাপাশি আপত্তি জানিয়ে পুরকমিশনার তথা প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডেকে চিঠি দিল প্রদেশ কংগ্রেস, কালীঘাট তৃণমূল ও বামেরা। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, ওয়ার্ডগুলির আসন মহিলা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নগরপালিকা বিলের আইন মানা হয়নি। বস্তুত সেই কারণে বহু ওয়ার্ড পরপর চারবার মহিলা সংরক্ষণ যেমন হয়েছে, তেমনই অনেক ওয়ার্ড বছরের পর বছর সাধারণের জন্য নির্ধারিত থাকছে।
ক্ষমতাসীন শাসকদলের শীর্ষমহলের একাংশের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে একদিকে সাধারণের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডের মহিলারা যেমন উপেক্ষিত হচ্ছেন, তেমনই চারবার মহিলা সংরক্ষিত ওয়ার্ড হওয়ায় পুরুষ ব্যক্তিত্বরা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগই পাচ্ছেন না। তথ্য ও পরিসংখ্যান দিয়ে এমনই অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি, যে সমস্ত ওয়ার্ডগুলি তার বিস্তারিত তথ্যও দিয়েছে কংগ্রেস ও বামেরা।
আরও পড়ুন:
এই ওয়ার্ডগুলি হল, ৯ (পুরাতন) নতুন ওয়ার্ড ১৭। এই ওয়ার্ডটি ২০০৫, ২০১৫, ২০২১, ২০২৬ সালেও মহিলা সংরক্ষিত করার প্রস্তাব হয়েছে। একইভাবে ওয়ার্ড নম্বর ১৮ (পুরাতন) নতুন ২০ হলেও গত ২০১৫, ২০২১ ও ২০২৬ সালে মহিলা সংরক্ষণের আওতায় এসেছে। ওয়ার্ড নম্বর ৬ (পুরাতন) নতুন ওয়ার্ড ৮। সেই ২০১৫, ২০২১ ও ২০২৬ সালে মহিলা সংরক্ষণ হয়েছে। উত্তর কলকাতার ৩ (পুরাতন) ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পর নতুন ১১ হয়েছে। এই ওয়ার্ডের ক্ষেত্রেও ২০২১ ও ২০২৬ সালে মহিলা সংরক্ষণের আওতায় পড়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেসের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, নগরপালিকা আইনের আসন সংরক্ষণের যে বিন্যাস হওয়ার কথা, তা বর্তমান পুরসভা ও নগরোন্নয়ন দপ্তর মানছে না। একই সুরে অভিযোগ করেছেন মমতা তৃণমূলের দক্ষিণ কলকাতার সভাপতি বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। বামেরা শুধুমাত্র অভিযোগ জানিয়ে থামেনি, বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। প্রদেশ কংগ্রেস ও কালীঘাট তৃণমূলের কার্যত যৌথ অভিযোগ, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসে সমস্ত নিয়মনীতি শুধু লঙ্ঘন করেনি, আপত্তি জানানোর পর ‘স্পট ভিজিট’ ও জন শুনানির যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা গুরুত্বই দেননি পুরসভার প্রশাসক।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
